খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Friday, 11 September 2026 - 02:29 PM
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০২:২৯ অপরাহ্ণ

Unakoti Road News : ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বেহাল রাস্তার সংস্কারের দাবী আজো অপূর্ণ উনকোটি তে

Unakoti Road News
1 minute read

Unakoti Road News : উন্নয়নের ঢাকঢোল যতই বাজুক, বাস্তবের রাস্তায় তার ছিটেফোঁটাও নেই—এমনই অভিযোগ উঠছে ঊনকোটি জেলার পেঁচারথল থেকে নবীনছড়া পর্যন্ত আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক ঘিরে। রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশাল আকারের গর্ত, গর্তে জমে থাকা জল-কাদা এবং ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে রাস্তার এই বেহাল দশা। বর্ষা নামতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। রাস্তার গর্তগুলিতে জল জমে যাওয়ায় অনেক সময় বোঝার উপায় থাকে না কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর গর্ত। ফলে ছোট-বড় যানবাহন আটকে পড়ছে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে এবং যানচালকদেরও গুনতে হচ্ছে বাড়তি মেরামতির খরচ।

রাজ্যের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক দিয়েই প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পণ্যবাহী গাড়ি, টোটো, অটো—সব ধরনের যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ নির্ভর করে এই সড়কের উপর। অথচ সেই রাস্তার এমন করুণ দশা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই।

টোটো চালক অনুপম চাকমার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ হলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বৃষ্টি হলে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় চরম সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান তিনি। রাস্তার বেহাল দশার কারণে দীর্ঘক্ষণ যানবাহনের লাইনে আটকে থাকার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে টোটো চালক গৌতম নমঃ জানান, জাতীয় সড়কের বড় বড় গর্তে প্রায়ই যানবাহনের চাকা আটকে যাচ্ছে। ধাক্কায় নষ্ট হচ্ছে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন চালকরা। তাঁর অভিযোগ, রাস্তা সংস্কারের নামে মাঝেমধ্যে কাজ হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের রাস্তার বুকজুড়ে দেখা দিচ্ছে গর্ত। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সংস্কারের নামে যে কাজ হচ্ছে তার গুণগত মান নিয়েই।

যানচালক জামাল উদ্দিনও দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। ফলে যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাস্তা সংস্কারের কাজে মাঝেমধ্যে হাত দেওয়া হলেও কাজের মান নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। তাঁদের দাবি, সংস্কারের কয়েকদিন পরেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ফের ভেঙে পড়ছে। এমনকি সংস্কারের কাজে ভিনরাজ্যের বেসরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় একাংশ ঠিকাদারের যোগসাজশে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থা, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের বক্তব্যও সামনে আসা জরুরি।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—যদি রাস্তা সংস্কার হয়ে থাকে, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই ফের কেন একই চেহারা? কাজের গুণগত মান পরীক্ষা হচ্ছে কি? সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরেও যদি সাধারণ মানুষকে একই দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়, তাহলে সেই সংস্কারের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার। রাজনৈতিক ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’। উন্নয়ন নিয়ে বারবার প্রচার হলেও পেঁচারথল থেকে নবীনছড়ার জাতীয় সড়কের বাস্তব ছবি সেই প্রচারের সঙ্গে যেন একেবারেই মেলে না। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক যদি গর্ত, জল আর কাদায় পরিণত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক প্রশ্ন—উন্নয়নের সুফল কোথায়?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারের কাছে বারবার সমস্যার কথা জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে তাঁদের।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তাহলে ছোটখাটো দুর্ঘটনার বদলে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই আর সাময়িক জোড়াতালি নয়—পেঁচারথল থেকে নবীনছড়া পর্যন্ত জাতীয় সড়কের স্থায়ী ও মানসম্মত সংস্কারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

For All Latest Updates

খাস খবর