GB Hospital News : জিবি হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতি ও নিরাপত্তারক্ষীদের চরম দুর্ব্যবহারের কারণে যুবকের করুণ মৃত্যু।স্বাস্থ্য পরিষেবার চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ পরিবার। রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবি-তে (গোবিন্দ বল্লভ পন্থ হাসপাতাল) আবারও চিকিৎসা গাফিলতি, চরম অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নির্মম আচরণের জেরে এক ২৬ বছর বয়সী যুবকের অকাল মৃত্যুর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। মৃতের নাম প্রসেনজিৎ মল্লিক, যার বাড়ি কাঁঠালিয়া অঞ্চলের সোনামুড়ায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক ক্ষোভ ও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে হাসপাতালের ভেতরে।
স্বজনহারা পরিবারের কান্নাকাটি ও ক্ষোভ প্রকাশের প্রত্যক্ষ চিত্র থেকে হাসপাতালের কঙ্কালসার চেহারা এবং কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার করুণ চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিহতের বোন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। নিহতের বোন অভিযোগ করেন, তারা যখন সংকটাপন্ন প্রসেনজিৎকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান, তখন গেটে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা (বিশেষ করে দুজন মহিলা কর্মী) তাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয় এবং ধাক্কা মেরে বের করে দেয়।
একজন বিষ খাওয়া বা মুমূর্ষু রোগীকে যেখানে দ্রুত আপৎকালীন বিভাগে নিয়ে যাওয়া জরুরি, সেখানে সিকিউরিটি গার্ডদের এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী আচরণ ও গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। স্বজনদের আকুতি সত্ত্বেও তাদের ভেতরে যেতে না দেওয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা সরাসরি রোগীর জীবন বিপন্ন করে তোলে।
পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, রাত প্রায় সাড়ে ১২ টায় তারা রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। রোগীর জন্য জরুরি ইনজেকশন ও ওষুধ রাতের বেলা কিনে আনা সত্ত্বেও, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বা কর্মীরা তা সময়মতো প্রয়োগ করেননি। সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বারবার অনুনয়-বিনয় করা সত্ত্বেও “টাইম হলে দেব, আপনি যান” বলে ডাক্তার ও নার্সরা পরিবারকে তাড়িয়ে দেন বলে মৃতের বোন জানিয়েছেন।তার দাবি চিকিৎসা পরিষেবায় এমন বিলম্ব একটি বিষাক্ত রোগীর ক্ষেত্রে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার শামিল।
এদিকে মৃতের স্বজনদের কণ্ঠে বারবার ফুটে উঠেছে এক চরম সত্য— “আমরা গরিব বলেই আমাদের কথা শোনা হয়নি, গরিবদের জন্য সরকারি হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা নেই।” তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা সঠিকভাবে ইমার্জেন্সিতে দায়িত্ব পালন করেন না, উল্টো রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পর্যাপ্ত অর্থ বা প্রভাব না থাকলে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষ যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ন্যূনতম চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হয়, তা নিহতের বোন ও মামার অভিযোগে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রসেনজিৎ মল্লিক বিষপান করার পর যখন তার পরিবার দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চায়তার জন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছিল, তখন তাকে সঠিক পরিচর্যা দেওয়ার বদলে চিকিৎসকরা কেবল কালক্ষেপণ করেছেন বলে মৃতের মামা জানিয়েছেন। তার দাবি সময়মতো পাকস্থলী পরিষ্কার (ওয়াশ) করা বা প্রয়োজনীয় ইনজেকশন প্রয়োগ না করার কারণে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ২৬ বছরের এক তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে যায়।
জিবি হাসপাতালের এই মর্মান্তিক ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক পচন ও চরম অব্যবস্থাপনার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। জনগণের করের টাকায় চলা একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পরিবর্তে রোগীদের যদি নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর ও চিকিৎসকদের চরম উদাসীনতার শিকার হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়?
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। গেটে নিরাপত্তারক্ষীরা কেন চিকিৎসায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে? চিকিৎসকরা কেন নির্ধারিত ওষুধ সময়মতো প্রয়োগ করবেন না? স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আজ কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে যে, জীবনের শেষ মুহূর্তে আকুতি জানানো পরিবারকে হাসপাতাল থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়?
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ও হাসপাতাল প্রশাসনের এই চরম অসংবেদনশীলতা এবং গাফিলতির জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স এবং নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে দাবি তুলেছেন নিহতের পরিবার। অন্যথায়, এই ধরনের সরকারি হাসপাতালগুলো চিকিৎসার কেন্দ্র না হয়ে কেবলই মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হবে বলে তাদের দাবি।






