Uttar Pradesh Congress : উত্তরপ্রদেশে বিজেপির অস্বস্তি বাড়াচ্ছে কংগ্রেসের ঘর গোছানো! রাজনীতিতে প্রাক্তন আইএএস রাকেশ ভার্মা, কংগ্রেসে একের পর এক যোগদান। ইউপির রাজনীতি তে বড়সড় পরিবর্তন ঘটাচ্ছে কি কংগ্রেস? এবার কংগ্রেসের পতাকা তলে একজন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক এর যোগদানের ঘটনায় এমনটাই প্রশ্ন উঠছে । আর এতেই শোরগোল পড়ে গেল রাজ্য রাজনীতিতে। ২০২৭ এর বিধানসভা ভোটের আগেই যেভাবে বিজেপি শিবিরে ভাঙ্গন ধরিয়ে শক্তি বাড়াচ্ছে কংগ্রেস তাতে করে যোগী সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে বলেই মনে করছে উত্তর প্রদেশ সহ গোটা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজনীতির ময়দানে শুরু হয়ে গিয়েছে ঘর গোছানোর পালা। আর সেই ঘর গোছানোর খেলায় এবার বড়সড় বার্তা দিল কংগ্রেস। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে নামলেন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক রাকেশ ভার্মা। বুধবার উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে রাজ্য সভাপতি অজয় রায়ের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে দলে যোগ দেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ফিরদৌস বানু, যিনি জারা খান নামেও পরিচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই যোগদান শুধুমাত্র দু’জন নতুন মুখের কংগ্রেসে প্রবেশ নয়, বরং নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। কারণ, প্রশাসনের অভিজ্ঞ একজন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক যখন চাকরির নিরাপদ পরিসর ছেড়ে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামেন এবং কংগ্রেসকে বেছে নেন, তখন তা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
রাকেশ ভার্মার বক্তব্যেও স্পষ্ট কংগ্রেসের প্রতি তাঁর রাজনৈতিক আস্থার কথা। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সময়ে অনেক আধিকারিক তাঁদের প্রকৃত দায়িত্বের বাইরে নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাঁর মতে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষাকে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশ ও রাজ্যের ক্ষমতায় এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাঁদের গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রতি যথেষ্ট আস্থা নেই। আর এখানেই কংগ্রেসের রাজনৈতিক আক্রমণের আসল জায়গা। ভার্মার বক্তব্য, দেশকে সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত করতে হবে এবং কংগ্রেস সেই দল, যে সংবিধানকে সমুন্নত রাখে। অর্থাৎ তাঁর যোগদানের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস কার্যত বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজনীতির বিরুদ্ধে সংবিধান, গণতন্ত্র এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে আনতে চাইছে।
কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ভার্মা আরও বলেন, তিনি রাজনীতিতে এসেছেন কাজ করার জন্য। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায়ের রাজনৈতিক সংগ্রামেও তিনি মুগ্ধ বলে মন্তব্য করেন।
কংগ্রেসের জন্য এই যোগদানের গুরুত্ব এখানেই। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টির শক্ত লড়াইয়ের মাঝে নিজেদের সাংগঠনিক জায়গা পুনর্দখলের চেষ্টা করছে কংগ্রেস। সেই জায়গায় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নতুন মুখকে সামনে এনে দলটি ভোটের আগে নিজেদের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
অজয় রায়ও নতুন যোগদানকারীদের তেরঙ্গা স্কার্ফ পরিয়ে স্বাগত জানান। তাঁর দাবি, রাকেশ ভার্মা এবং ফিরদৌস বানু সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ভার্মা ৮৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর যত্ন নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। অজয় রায়ের বক্তব্য, তাঁদের যোগদানে দল আরও শক্তিশালী হবে এবং তাঁরা সাংগঠনিকভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এদিকে মোহনলালগঞ্জের প্রাক্তন কংগ্রেস প্রার্থী নরেন্দ্র গৌতমের নেতৃত্বে লখনউয়ের বেশ কয়েকজনের কংগ্রেসে যোগদানও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থাৎ একদিকে নতুন মুখ, অন্যদিকে স্থানীয় স্তরের কর্মী-সমর্থকদের দলে টানার চেষ্টা—দুই দিকেই সংগঠন শক্ত করার বার্তা দিচ্ছে কংগ্রেস।
তবে এই ছবি বিজেপির জন্য নিঃসন্দেহে অস্বস্তির। উত্তরপ্রদেশকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখা বিজেপির সামনে এবার বড় চ্যালেঞ্জ সংগঠন ধরে রাখা এবং বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ সামলানো। যদিও এই যোগদানকে সরাসরি বিজেপিতে বড়সড় ভাঙন হিসেবে ঘোষণা করার মতো তথ্য এখনও সামনে নেই, কিন্তু কংগ্রেসের শিবিরে নতুন মুখের আনাগোনা এবং প্রশাসনিক স্তরের ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে দল বেছে নেওয়া বিজেপির জন্য যে রাজনৈতিক সতর্কবার্তা, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। নির্বাচনের আগে তাই প্রশ্ন একটাই—এ কি কেবল কংগ্রেসের ঘর গোছানোর শুরু, নাকি উত্তরপ্রদেশে বিজেপির অন্দরেও ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে অসন্তোষের নতুন স্রোত? কারণ নির্বাচনের রাজনীতিতে ভাঙন সবসময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে আসে না। অনেক সময় তার প্রথম ইঙ্গিত দেখা যায় দলবদল, নতুন মুখের আগমন এবং পুরনো সমীকরণের নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই।






