Manik Sarkar : সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অশালীন মিম ছড়ানোর অভিযোগে পশ্চিম আগরতলা থানায় এজাহার দায়ের।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এক মহিলাকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ এবং অশালীন মিম ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ত্রিপুরার বামপন্থী রাজনৈতিক অঙ্গন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম—বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকে—প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং বাম যুব আন্দোলনের রাজ্য নেতৃত্ব নবারুণ দেবের ছবি বিকৃত করে এক মহিলার সাথে জড়িয়ে তীব্র অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। এই কুরুচিপূর্ণ সাইবার আক্রমণের কঠোর বিরোধিতা করে এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার পশ্চিম আগরতলা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন বামপন্থী
যুব নেতা জয়দীপ রাউত।
থানা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়দীপ রাউত জোরালো ভাষায় এই অপসংস্কৃতি ও সাইবার অপরাধের নিন্দা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সিপিআইএমকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই একটি বিশেষ গোষ্ঠী এরকম বিকৃত ও মানসিক অসুস্থতার পরিচায়ক পথ বেছে নিয়েছে। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও ফেসবুক/ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের অশোভন কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। অভিযোগ পত্রে তিনি তিন জন প্রধান অভিযুক্তের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ্যে এনেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর বল্লভপুরের (ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের কাছে) বাসিন্দা রাহুল পাল, চেবরি বাজার খোয়াইয়ের বাসিন্দা লিটন রায় এবং আমতলী ওল্ড স্টার পাড়ার বাসিন্দা দীপঙ্কর চক্রবর্তী।
জয়দীপ রাউতের মতে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েই শাসকদল ঘনিষ্ঠ কিছু দুষ্কৃতী ও কুচক্রী মহল এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা এবং চরিত্রহননের রাজনীতিতে নেমে পড়েছে। এটিকে তিনি বিদ্যমান সরকারের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও দেউলিয়াপনার স্পষ্ট প্রতিফলন বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধানের নির্দিষ্ট আইনি ধারা এবং মানহানি সংক্রান্ত কঠোর আইনের অধীনে সাইবার ক্রাইম শাখা ও পুলিশ প্রশাসন যেন অবিলম্বে এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে রাজ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে এমন অশালীন প্রচার বন্ধে এবং সাইবার অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য তিনি আগরতলা পশ্চিম থানার পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।






