কোথাও শিক্ষক তো কোথাও শিক্ষার্থীর সঙ্কট, হাসির খোঁড়াকে পরিণত ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থা : একদিকে ত্রিপুরার বহু সরকারি বিদ্যালয় ধুঁকছে শিক্ষক স্বল্পতায়। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী রয়েছে কিন্তু শিক্ষক নেই। হচ্ছে না ক্লাস, লাটে উঠছে পঠন পাঠন। প্রায় বন্ধের মুখে পৌঁছে গেছে বহু সরকারি বিদ্যালয়। একই রাজ্যে আবার দেখা যাচ্ছে এবার অন্য চিত্র।
একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছে ৬ জন, আবার শিক্ষার্থী ও আছেন ৬ জন। মানে প্রতি শিক্ষার্থী বাবদ এক জন করে শিক্ষক। যা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। ব্যাতিক্রমি এই ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম গুরুপদ কলোনি জেবি স্কুলে যা জম্পুই জলা মহকুমার অন্তর্গত।
জম্পুইজলা সাব-ডিভিশনের টিটিএএডিসি এলাকার লংমাহাতী পশ্চিম গুরপ্রদ কলোনি জেবি স্কুল জুড়ে বর্তমানে মাত্র ৬ জন ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন ৬ জন শিক্ষক। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো মোটামুটি ভালো থাকলেও ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে কোনো ছাত্র ছাত্রীই নেই। এমনও দিন যায়, যখন মাত্র একজন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে, আবার কোনো দিন কেউই আসে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিদ্যালয়টির পাশেই একটি এবং প্রায় ২০০ মিটার দূরে আরও একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। ফলে অধিকাংশ অভিভাবক সরকারি বিদ্যালয়ের পরিবর্তে সন্তানদের ওই বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি করাচ্ছেন। এর প্রভাবেই সরকারি বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিকাঠামোর বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, নিকটবর্তী বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত জম্পুইজলা আইএস (IS) কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ।
তবে একই সঙ্গে সরকারি এই বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো গত ত্রুটি বিচ্যুতির কারণেও স্থানীয়রা তাদের শিশু দের এই বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাইছেন না কিনা সেই দিক টিও তলব করে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি রাজ্যের যে সমস্ত স্কুল গুলি প্রকৃত অর্থে শিক্ষক সঙ্কটে ধুঁকছে সেই স্কুল গুলিতে প্রয়োজন বুঝে শিক্ষক দের স্থানাতর করা টাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।



