Journalist Under Threat : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফটিকরায়ের স্থানীয় সাংবাদিক বিকাশ কাপালিকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার নজিরবিহীন ঘটনাটি রাজ্যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন অস্তিত্ব এবং সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কঙ্কালসার ও জরাজীর্ণ রূপটিকে আবারও স্পষ্ট করে দিল।
একটি অচেনা ও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে একজন কর্মরত সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে পরপর চরম হুমকিমূলক মন্তব্য করা এবং তাঁর জীবন শেষ করে দেওয়ার খোলাখুলি হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল প্রচলিত ‘তদন্তের আশ্বাস’ প্রদান ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান বা ফলপ্রসূ পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই ঘটনাকে কোনোভাবেই একটি বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি ত্রিপুরার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নেমে আসা ভয়ভীতি প্রদর্শনী, শারীরিক হামলা, নির্যাতন ও নিগ্রহের এক অভিশাপজনক ও দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতারই অংশ।
সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে একের পর এক সাংবাদিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পেশাদার দুর্বৃত্ত ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী বেধড়ক মারধরের মুখোমুখি হয়েছেন। অথচ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও অপরাধীদের চিহ্নিত করা বা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই অত্যন্ত ঢিলেঢালা এবং প্রশ্নবিদ্ধ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থানা-পুলিশের প্রাথমিক ফাইলপত্র তৈরির পরেই তদন্ত প্রক্রিয়া এক রহস্যজনক স্থবিরতায় থমকে যায়, যা অপরাধীদের কেবল পার পাইয়ে দেয় না, বরং তাদের আরও বেশি দুঃসাহসী ও আক্রমণাত্মক করে তুলতে উৎসাহিত করে।
বর্তমান রাজ্য সরকার বিভিন্ন মঞ্চ ও বিবৃতিতে নিজেদের ‘সাংবাদিকবান্ধব’ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দাবি করে থাকলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে। পেশাগত সততা বজায় রেখে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রামীণ ও শহরঞ্চলের সাংবাদিকরা যখন প্রতিনিয়ত জীবন সংশয়, ভয়ভীতি এবং মানসিক উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, তখন সরকারের সেই তথাকথিত আশ্বাস কেবলই কাগুজে প্রতিশ্রুতি ও ফাঁকা বুলি হিসেবে প্রমাণিত হয়।
সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ এবং যেকোনো সুস্থ ও কার্যকর গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হন। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চেষ্টা আসলে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার এবং সাধারণ মানুষের মুক্ত প্রকাশকে স্তব্ধ করার শামিল। কিন্তু রাজ্যে যে জ্যামিতিক হারে সাংবাদিকদের ওপর হুমকি ও আক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তার বিপরীতে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা বজায় থাকছে, তাতে অত্যন্ত পরিষ্কার যে বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের ন্যূনতম মৌলিক নিরাপত্তা বিধানেও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ফটিকরায়ের এই সাম্প্রতিক ঘটনায় পুরো স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এবং অবিলম্বে ওই ফেক অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে।
প্রশাসন যদি এখনই তাদের এই নির্বিকার অবস্থান ত্যাগ করে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনে রাজ্যের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুরোপুরি ধসে পড়বে, যা একটি সুশাসিত রাজ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।






