খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Sunday, 20 September 2026 - 01:10 PM
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০১:১০ অপরাহ্ণ

Civil Pensioners Association : ন্যায্য পাওনার দাবিতে গর্জে উঠল সিভিল পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশন

Civil Pensioners Association
1 minute read

Civil Pensioners Association : ত্রিপুরা রাজ্যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, আর্থিক অসামঞ্জস্য ও অধিকার হরণের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ আছড়ে পড়ল রাজপথে। নিজেদের বকেয়া পাওনা এবং ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দফা মূল দাবিকে সামনে রেখে শনিবার আগরতলার ঐতিহ্যবাহী সার্কিট হাউস সংলগ্ন মহাত্মা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এক শক্তিশালী ও সংগঠিত ধর্না কর্মসূচির আয়োজন করে ‘ফোরাম অব সিভিল পেনশনার্স’ অ্যাসোসিয়েশনস, ত্রিপুরা স্টেট’। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অত্যন্ত সুশৃঙ্খল কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এই প্রতিবাদী সমাবেশ পরিচালিত হয়। জীবনের সায়াহ্নে এসে জীবনভর সেবাদানকারী প্রবীণ কর্মচারীদের রাজপথে নেমে এভাবে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে শামিল হওয়ার দৃশ্য রাজ্য প্রশাসনের প্রতি এক তীব্র অসন্তোষ ও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেছে।

প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের মূল বক্তব্য হলো, সারা জীবন নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারি দফতরে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করার পর অবসরের পরপ্রান্তে এসে প্রবীণদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ত্রিপুরা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে পেনশনভোগীদের বিভিন্ন আর্থিক সুযোগ-সুবিধায় ব্যাপক বৈষম্য ও অসামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়েছে, যার ফলে প্রবীণদের একটি বিশাল অংশ চরম আর্থিক অনটন ও মানসিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই অন্যায় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ফোরামের পক্ষ থেকে যে ১১ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো ভ্যালিডেশন সংক্রান্ত ক্ষতিকর ও বিতর্কিত ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা এবং সমস্ত স্তরের পেনশনভোগীদের মধ্যে সুযোগ-সুবিধার সমতা প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়ম মেনে পে কমিশন চালু করা, পে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ কার্যকর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং মহার্ঘ ত্রাণ বা ডিয়ারনেস রিলিফ (ডিআর) ৫০ শতাংশ অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে মূল বেতন ও মূল পেনশনের সঙ্গে সংযুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

ধর্না মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সংগঠনের প্রবীণ নেতারা রাজ্য সরকারের নীরবতা ও উদাসীনতার বিরুদ্ধে সুর চড়ান। সংগঠনের সচিব গোপাল চন্দ্র সেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, পেনশনভোগীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা বারবার প্রশাসনিক দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি বা স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক এই দীর্ঘসূত্রতা ও চরম অবহেলার কারণেই বাধ্য হয়ে প্রবীণ নাগরিকদের রাজপথের আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে সংগঠনের সভাপতি মানিক লাল ভট্টাচার্যী সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্মচারীরা তাঁদের জীবনের সুবর্ণ সময় রাজ্যের প্রশাসনিক চাকা সচল রাখতে ব্যয় করেছেন। অবসরের পর তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা এবং আর্থিক সংকটে ঠেলে দেওয়া কোনো সংবেদনশীল সরকারের পরিচয় হতে পারে না। তিনি কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানান।

ধর্না কর্মসূচিতে উপস্থিত অসংখ্য সদস্য ও পেনশনভোগীদের দফায় দফায় দেওয়া স্লোগানে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। সমাবেশ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এটি কেবল আন্দোলনের সূচনা মাত্র। সরকার যদি অতি দ্রুত এই ১১ দফা দাবি পর্যালোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হবে।

For All Latest Updates

খাস খবর