Boxanagar Ganja News : বক্সনগর ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ডেলানিয়ার সরকারি বন্দোবস্তীয় জায়গার গভীর জঙ্গলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হলো ২১৪ কেজি শুকনো গাঁজা। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো , সিপাহীজলা জেলা পুলিশ, কলমচৌড়া থানা, ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং বন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভূতপূর্ব অভিযানে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ১২টি বিশাল ড্রাম উদ্ধার করা হয়। ঘন জঙ্গলে মাটির নিচে গোপন আস্তানা ধ্বংস করতে জেসিবি মেশিন ব্যবহার করতে হয় বাহিনীকে। এই ঘটনায় একজনকে আটকও করা হয়েছে। এই সাফল্য কেবল একটি চোরাচালান চক্রকে ফাঁস করেনি, বরং সীমান্তঘেঁষা এই এলাকায় মাদক মাফিয়াদের জালের কতটা গভীর শেকড় ছড়িয়েছে, তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
এই সাম্প্রতিক অভিযান প্রমাণ করে যে মাফিয়ারা এখন অত্যন্ত চতুর ও আধুনিক কৌশল ব্যবহার করছে। সাধারণ উপায়ে নজরদারি এড়াতে তারা গহীন জঙ্গল ও সরকারি জমি বেছে নিচ্ছে এবং মাটির গভীরে বিপুল পরিমাণ মাদক মজুত রাখছে। কিন্তু শুধু একটি সফল অভিযানের মধ্যেই এই লড়াইকে সীমিত রাখলে চলবে না। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে মাদক পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিতে প্রয়োজন লাগাতার, জোরালো এবং ঘনঘন চিরুনি অভিযান। প্রতিবার যখন কোনো বড় চালান ধরা পড়ে, দেখা যায় কিছু দিন পরই মাফিয়ারা আবার নতুন রুটে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই চক্র ভাঙতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিনিয়ত এবং অল-আউট অপারেশনে নামতে হবে। নিয়মিত তল্লাশি থাকলে পাচারকারীরা নতুন কোনো গোপন আস্তানা গড়ার সুযোগ পাবে না।
এর পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও এই মাদকবিরোধী যুদ্ধের এক অন্যতম প্রধান শর্ত। এই অভিযানে খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া বক্সনগর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সিআরপিএফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ৪৯ নং ব্যাটালিয়ন বিএসএফের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাদকচক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংবাদমাধ্যম হলো সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর এবং প্রশাসনের অন্যতম প্রধান সহযোগী। ঘটনাস্থলে বস্তুনিষ্ঠ খবর সংগ্রহে বাধার সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ ও বিভ্রান্তি দানা বাঁধে। নিরাপত্তার অজুহাতে তথ্য গোপন বা বাধা প্রদান না করে, বরং সাংবাদিকদের সঠিক কাজ করতে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে অপরাধীদের প্রকৃত চেহারা সমাজের সামনে আসে।
বক্সনগরের এই উদ্ধার অভিযান একটি সতর্কবার্তা। সীমান্ত সীমান্ত এলাকাগুলিতে জেসিবি ব্যবহারের মতো আধুনিক অনুসন্ধান পদ্ধতি নিয়মিত চালু রাখতে হবে। একই সাথে উদ্ধারকৃত মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল, মাটির নিচে ড্রামজাত করে কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল এবং এর পেছনে থাকা মূল মাস্টারমাইন্ড কারা, তা খুঁজে বের করতে হবে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই সিন্ডিকেটের পুরো নেটওয়ার্ক ফাঁস করা সময়ের দাবি। ত্রিপুরাকে সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত করতে হলে পুলিশ, বিএসএফ, বন দপ্তর ও অন্যান্য এজেন্সির মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে এবং কোনো বিরতি ছাড়াই ক্রমাগত কঠোর পদক্ষেপ চালিয়ে যেতে হবে। তবেই এলাকা থেকে মাদকের অভিশাপ চিরতরে দূর করা সম্ভব হবে।






