নেশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, কৈলাসহর থানায় কাউন্সিলর-সহ বাসিন্দাদের ডেপুটেশন : মাদকদ্রব্যের অবাধ কারবার, মাদকাসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তার জেরে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বেড়ে চলার অভিযোগ তুলে কৈলাসহর থানায় ডেপুটেশন দিলেন কৈলাসহর পুর পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মানসী চক্রবর্তী ও এলাকার বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার তারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে দ্রুত মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীনিকেতন শপিং কমপ্লেক্স, শ্মশানঘাট সংলগ্ন এলাকা, সিনেমা হলের পাশের পাড়া-সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদকদ্রব্যের অবৈধ কারবার চলছে। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। ফলে এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকের বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এলাকায় চুরির ঘটনাও বেড়েছে। কয়েকদিন আগে সর্বানন্দ স্মরণী এলাকায় দিনের বেলায় একটি চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন পাড়ায় ছোট-বড় চুরির অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে মাদকাসক্তদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাউন্সিলর মানসী চক্রবর্তী বলেন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছেন। তাঁর দাবি, মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং অপরাধের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, পাশাপাশি যেসব এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে সেখানে নিয়মিত পুলিশি নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চালানো জরুরি।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তাদের বিশ্বাস, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে এলে চুরি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধও অনেকাংশে কমবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরে আসবে।



