Agartala Municipal Corporation : পুর নিগমের নির্দেশিকা অমান্য করে পোস্ট অফিস চৌমুহনীর গোলচক্রে বিজেপির পোস্টার ও দলীয় পতাকা! প্রশ্নের মুখে পুর নিগমের নিয়ম কার্যকর করার ভূমিকা।
নিয়ম তৈরি হচ্ছে, নির্দেশিকা জারি হচ্ছে, এমনকি সেই নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে বসানো হচ্ছে নির্দেশনা বোর্ডও। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, আগরতলা পুর নিগমের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশিকাকে কার্যত উপেক্ষা করার ছবি ধরা পড়ল শহরের ব্যস্ততম এলাকা পোস্ট অফিস চৌমুহনীর গোলচক্রে। আর এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
পোস্ট অফিস চৌমুহনীর গোলচক্রে আগরতলা পুর নিগমের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট নির্দেশনা বোর্ড লাগানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই এলাকায় কোনও ধরনের ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন কিংবা প্রচারসামগ্রী লাগানো যাবে না। শহরের সৌন্দর্য রক্ষা, যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ গোলচক্রগুলিকে প্রচারসামগ্রীর দখলমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যেই সম্ভবত এই নির্দেশিকা। সাধারণভাবে এই নির্দেশিকার অর্থ, রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনই সেখানে নিজেদের প্রচারসামগ্রী লাগাতে পারবে না।
কিন্তু বাস্তব চিত্র যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। নির্দেশনা বোর্ডের ঠিক পাশেই দিব্যি শোভা পাচ্ছে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের জন্য লাগানো বড় বড় পোস্টার এবং দলীয় পতাকা। শুধু তাই নয়, সেই প্রচারসামগ্রীর মধ্যেই রয়েছে আগরতলা পুর নিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারপার্সন তথা পুর নিগমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যা রত্না দত্তের ছবিও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যে পুর নিগম নিজেই এই এলাকায় প্রচারসামগ্রী লাগানোর বিরুদ্ধে নির্দেশিকা জারি করেছে, সেই পুর নিগমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারেই যদি একই জায়গায় পোস্টার ও পতাকা দেখা যায়, তাহলে নিয়ম কার্যকর করার দায়িত্ব কার?
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, একই জায়গায় একদিকে পুর নিগমের নির্দেশিকা, অন্যদিকে সেই নির্দেশিকার পাশেই রাজনৈতিক দলের প্রচারসামগ্রী। যেন বোর্ডে লেখা নিয়ম আর বাস্তবের ছবির মধ্যে বিস্তর ফারাক। সাধারণ মানুষ কিংবা অন্য কোনও রাজনৈতিক দল একই কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
নির্বাচনের আবহে শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রচার চলতেই পারে। তবে সেই প্রচারের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনে চলার দায় প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই রয়েছে। তাই পোস্ট অফিস চৌমুহনীর এই দৃশ্য সামনে আসার পর পুর নিগমের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত এই নির্দেশিকা কি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় অনুযায়ী নিয়মের প্রয়োগে ভিন্নতা দেখা যাবে, এখন সেটাই দেখার।






