BJP Muktadhara Auditorium : ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকার ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্যের শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও নির্বাচনী রণকৌশল চূড়ান্ত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বিজেপির এক গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের সাংগঠনিক বৈঠক। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা, বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য, বিধায়ক, এডিসি-র সদস্য , বিভিন্ন জেলার সভাপতি এবং রাজ্যের সমস্ত মন্ডল সভাপতিরা একত্রিত হন।
তৃণমূল স্তরের এই প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত সকলের মধ্যে আসন্ন নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি ও দলীয় প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
সংবাদমাধ্যমে দেওয়া দলীয় মুখপাত্র বা প্রতিনিধির বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কমিটি স্তরে দলের শক্তি কতটা সুদৃঢ় হয়েছে তা পর্যালোচনা করা এবং যেখানে কোনো খামতি রয়েছে তা দ্রুত সংশোধন করা। প্রদেশ বিজেপির সভাপতি অভিষেক দেব রায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে , নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক পর্যালোচনার পাশাপাশি জোটের রাজনীতি এবং বিভিন্ন স্থানে ‘ফ্রেন্ডলি ফাইট’ বা সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ত্রিপুরার পাহাড় ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক পরিবেশ সবসময়ই অত্যন্ত সংবেদনশীল। ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের শরিক দল হিসেবে তিপরা মথা এবং আইপিএফটি যুক্ত থাকলেও, স্থানীয় স্তরের ভোট রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা বেশ জটিল। বহু অঞ্চলে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়া হলেও, মাঠপর্যায়ে কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন ও রাজনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখতে কয়েকটি আসনে মিত্রদলগুলোর মধ্যে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ‘ফ্রেন্ডলি ফাইট’-এর রূপরেখা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে ভারতীয় জনতা পার্টি মূলত বহুমাত্রিক অনুকৌশল বা স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করছে।প্রথমত, এটি কেবল ভিলেজ কমিটির নির্বাচনী প্রস্তুতি নয়, বরং আগামী দিনে রাজ্যে আসতে যাওয়া অন্যান্য স্থানীয় ও স্বশাসিত সংস্থার নির্বাচনের জন্য দলীয় সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি বড় উদ্যোগ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ শাসনের সাফল্য, বিশেষ করে জনজাতি এলাকার সার্বিক বিকাশ, পানীয় জল, আবাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে হাতিয়ার করে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, মন্ডল সভাপতি ও বুথ স্তরের কর্মীদের সরাসরি নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করে নিখুঁত ভোটার সংযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইস্যুগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে দলের সাধারণ কর্মীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা বিরোধী রাজনৈতিক প্রচারের জবাব দিতে প্রস্তুত থাকেন। তৃতীয়ত, জোটের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করা হচ্ছে। যেখানে জোটের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত, সেখানে যৌথ প্রচার চালানোর পাশাপাশি যেসব এলাকায় উভয় দলেরই জোরালো দাবি রয়েছে, সেখানে সুনির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে ফ্রেন্ডলি ফাইট পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, মুক্তধারা অডিটোরিয়ামের এই উচ্চপর্যায়ের সাংগঠনিক বৈঠক কেবল একটি রুটিন সভা ছিল না, বরং তা ছিল জনজাতি এলাকায় বিজেপির রাজনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করার এবং আগামী দিনের সমস্ত নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল স্তরে শক্তি প্রদর্শনের এক পরিকল্পিত ব্লু-প্রিন্ট।






