খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Tuesday, 8 September 2026 - 02:43 PM
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০২:৪৩ অপরাহ্ণ

VC Election News : ত্রিপুরায় ভিলেজ নির্বাচনে নজিরবিহীন ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাস, বিরোধীদের রুখতে উত্তপ্ত পাহাড়-সমতল

VC Election News
1 minute read

VC Election News : আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ত্রিপুরায় গণতন্ত্রকে চরমভাবে পদদলিত করার এক নজিরবিহীন চক্রান্ত গড়ে উঠেছে। পাহাড় থেকে সমতলে কায়েম হয়েছে এক ভয়াবহ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসের রাজত্ব। ক্ষমতা হারানোর চরম আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে শাসক এনডিএ জোট—বিজেপি, টিপরা মথা এবং আইপিএফটি—একত্রে বিরোধী শূন্য নির্বাচন করার হীন উদ্দেশ্যে সমগ্র রাজ্যে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বামপ্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধার সৃষ্টি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, সশস্ত্র হামলা, বর্বরোচিত শারীরিক নিগ্রহ এবং প্রার্থীদের হাত থেকে মূল মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগে আজ উত্তাল সমগ্র ত্রিপুরা।

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এক চরম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে ব্যাখ্যা করে বাম নেতৃত্ব অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রশাসনিক মদতপুষ্ট শাসক জোটের গুণ্ডাবাহিনী সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ এবং মিথ্যা আশ্বাসের বিপরীতে সাধারণ মানুষ যখন পুনরায় বামপন্থীদের সমর্থনে এক অভাবনীয় জনজোয়ার সৃষ্টি করছেন, ঠিক তখনই ক্ষমতার গদি হারানোর চরম আতঙ্কে শিউরে উঠেছে ত্রিপুরায় সদ্য গঠিত এই সুযোগসন্ধানী ত্রিদলীয় এনডিএ জোট। স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হওয়ার সাহস হারিয়ে তারা এখন পেশিশক্তি ও কোটি কোটি টাকার কালো টাকা ছড়িয়ে পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কাউন্সিল দখল করতে তৎপর।

সম্প্রতি প্রকাশিত বক্তব্যে প্রখ্যাত প্রবীণ বাম নেতা রতন দাস শাসকদলের এই অরাজক ও কলঙ্কজনক কায়দার বাস্তব রূপ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে কীভাবে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার প্রায় প্রতিটি ব্লকে গত ১ তারিখ থেকে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা ঘাঁটি গেড়ে অবস্থান করছে। একমাত্র মান্দাই ব্লক ছাড়া সমগ্র পশ্চিম জেলার অন্য কোনো ব্লকেই বামফ্রন্ট কিংবা বিরোধী সিপিআই(এম) প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে গিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দিতে পারছেন না। শাসক ক্যাডারদের তাণ্ডবে ব্লক অফিস প্রাঙ্গণগুলো আজ কার্যত এক-একটি ‘মিনি সামরিক ঘাঁটিতে’ পরিণত হয়েছে।


তিনি প্রামাণ্য তথ্য তুলে ধরে জানান, জিরানিয়া, দুকিল, ওল্ড আগরতলা, বেলবাড়ি ও লেফুঙ্গার মতো বিস্তীর্ণ এলাকায় বিরোধীদের পথ আটকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হচ্ছে। এমনকী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রার্থীদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার এবং পরিবারকে নিঃশেষ করে দেওয়ার প্রত্যক্ষ হুমকি ফোন পাঠানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিম জেলায় ৮৫টি ভিলেজে মোট ৬৫৬টি আসন রয়েছে এবং বামফ্রন্টের প্রতিটি আসনে যোগ্য প্রার্থী দেওয়ার মতো পূর্ণ সাংগঠনিক ক্ষমতা ও সমর্থন রয়েছে। কিন্তু শাসক জোট ভালো করেই জানে, নিরপেক্ষ ও মুক্ত পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হলে পাহাড়ে টিপরা মথার তোলাবাজি এবং বিজেপির দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে।


এই নজিরবিহীন গণতান্ত্রিক সংকটের প্রতিবাদে এবং অবাধ ও ভয়মুক্ত পরিবেশে মনোনয়ন জমার দাবিতে বামফ্রন্টের এক প্রতিনিধি দল পশ্চিম জেলার শাসকের কাছে এক জরুরি ডেপুটেশন প্রদান করে। রতন দাস সুনির্দিষ্ট দাবি জানান যে, অবিলম্বে সমস্ত ব্লক প্রাঙ্গণ থেকে দুষ্কৃতীদের হঠাতে হবে এবং প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে বিডিও অফিসের বাইরে কোনো বিকল্প নিরাপদ স্থানে মনোনয়ন জমা নেওয়ার দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে। ডেপুটেশনকালে জেলা শাসকও পরিস্থিতির গুরুগম্ভীরতা স্বীকার করে নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।


তবে সাধারণ সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—গণতান্ত্রিক দেশে সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার রক্ষা বা সামান্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মতো কাজের জন্য কেন বারবার জেলা শাসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে? বাম নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, পেশিশক্তি বা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাময়িকভাবে সন্ত্রাস চালানো গেলেও জাগ্রত গণরোষকে চেপে রাখা যায় না। জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে ফ্যাসিস্ট চক্রান্ত ভেঙে পড়তে বাধ্য এবং ত্রিপুরার মাটিতে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবেই।

For All Latest Updates

খাস খবর