CPIM Nomination News : ত্রিপুরা রাজ্যে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি বজায় রেখে নির্বাচনের ময়দানে প্রচার ও মনোনয়ন পর্বে নিজেদের উপস্থিতি ফের জোরালোভাবে জাহির করছে সিপিআই(এম)। শুক্রবার ধলাই জেলার কমলপুর দুর্গা চৌমুহনী আরডি ব্লকের অধীনে থাকা ৬টি ভিলেজ কমিটির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেই সুসংগঠিত রূপটিই আবারো স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সিপিআই(এম) সমর্থিত প্রার্থীরা জাতি-জনজাতির সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এক বিশাল বর্ণাঢ্য মিছিলের মাধ্যমে তাঁদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন দুর্গা চৌমুহনী বাজারে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সিপিআই(এম)-এর শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে এই পুরো প্রক্রিয়াটি এক উৎসবমুখর এবং রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ চেহারায় রূপ নেয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ধলাই জেলা সিপিআই(এম) সম্পাদক অঞ্জন দাস, কমলপুর মহকুমা কমিটির সম্পাদক অমর ভট্টাচার্য্য, বিশিষ্ট জনজাতি নেতা বদরভোম হালাম এবং নারী নেত্রী কল্যাণী রায়।
দুর্গা চৌমুহনী বাজার থেকে শুরু হওয়া এই ঐক্যবদ্ধ মিছিলটি এলাকার প্রধান প্রধান পথ পরিক্রমা করে দুর্গা চৌমুহনী আর ডি ব্লক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পঞ্চায়েত অধিকারিকের কাছে ৬টি ভিলেজ কমিটির নির্ধারিত জনজাতি মহিলা ও পুরুষ প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়ন পর্ব শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধলাই জেলা সম্পাদক অঞ্জন দাস বর্তমান তিপরা মথা ও বিজেপি পরিচালিত জোট সরকারের সার্বিক ব্যর্থতা, উন্নয়নহীনতা এবং জনবিরোধী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, স্থানীয় স্তরের মানুষ তাঁদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে সিপিআই(এম) প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।
নির্বাচনী রাজনীতির ইতিহাসে একটি বিষয় বারবার পরিলক্ষিত হয় যে যেকোনো নির্বাচন ঘোষণা হলেই প্রার্থী তালিকা তৈরি এবং দ্রুততম সময়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট পার্টির সাংগঠনিক গতিশীলতা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলগুলো থেকে অনেক এগিয়ে। যেকোনো সাধারণ বা স্থানীয় স্তরের নির্বাচন ঘোষণার পরপরই যখন বিরোধী কিংবা ক্ষমতাসীন অনেক দল প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা স্থানীয় সমীকরণ মেলাতে গিয়ে হিমশিম খায়, সেখানে সিপিআই(এম) প্রথম দিন থেকেই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নেমে পড়ে।
এটি কেবল ভাগ্যের ব্যাপার নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এক সুসংহত ও ক্যাডারভিত্তিক দলীয় কাঠামোর ইতিবাচক ফল। দলের ভেতরের সুনির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মতামত মূল্যায়ন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার কারণেই প্রার্থী নির্বাচনে অনাবশ্যক বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হয়। দুর্গা চৌমুহনী ব্লকের সাম্প্রতিক এই মনোনয়ন পর্ব ফের প্রমাণ করল যে, প্রচার বা সংগঠন—উভয়ক্ষেত্রেই সুশৃঙ্খল দল হিসেবে সিপিআই(এম) তাদের পুরনো ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছে। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পঞ্চায়েত স্তরে নিজেদের ভিত পুনরুদ্ধার করতে বামপন্থীদের এই দ্রুত ও সংগঠিত পদক্ষেপ নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্র যোগ করেছে।






