Bamutia Road News : যে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিধানসভায় ইতিমধ্যেই পিটিশন জমা পড়েছে এবং সেই পিটিশন পিটিশন কমিটির মাধ্যমে পাশও হয়েছে, সেই রাস্তা নিয়েই নতুন করে এলাকাবাসীর ক্ষোভ উসকে দেওয়ার ঘটনায় বামুটিয়ায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। রাস্তা সংস্কারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিধায়ক নয়ন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনায় সামনে এসেছে এমনই এক নথি, যা গোটা বিষয়টির অন্য একটি দিক তুলে ধরছে।
বামুটিয়া কেন্দ্রের ভাগলপুর ও নরসিংগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কয়েকটি এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার কথা উল্লেখ করে বিধায়কের মাধ্যমে বিধানসভার সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাগলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্রী ধ্রুব দাসের পুরাতন বাড়ির কাছ থেকে কলোনি স্কুল, লাওয়ামুড়া হয়ে নরসিংগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এলপিজি রামের গ্যাস সরবরাহকারী বাড়ির দক্ষিণ প্রান্ত, অর্থাৎ নরসিংগড়-দুর্গা বাড়ি চা বাগান মেইন রোড পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
একইসঙ্গে লিংক রোড-৯০ কলোনি দাসপাড়া স্কুল থেকে ৭০ কলোনি সমর সুশান্তের বাড়ি পর্যন্ত এবং ৭০ কলোনি সংলগ্ন শীলের বাড়ি থেকে নরসিংগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পল্লীর দীপক বর্ধনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটিও নতুন করে পিচ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। নথিতে জানানো হয়েছে , উল্লেখিত রাস্তাগুলি ওই এলাকার মানুষের চলাচল এবং এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। কয়েকশো মানুষ এই রাস্তার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাস্তার বেহাল দশা। বিশেষ করে লিংক রোড দুটির প্রতিটি বর্ষাকালে প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাস্তার কালভার্টগুলিও ভগ্নপ্রায় অবস্থায় থাকায় রিকশা পর্যন্ত চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাতে তো চলাচল আরও দুরূহ। প্রায়ই সাইকেল, মোটরসাইকেল কিংবা অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই স্থানীয় বিধায়ক নয়ন সরকার বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করেন বলে দাবি। শুধু দাবি জানিয়েই থেমে থাকেননি, রাস্তা সংস্কারের জন্য পিটিশন কমিটির কাছেও আবেদন করা হয়।
নথিতে স্পষ্টভাবে রাস্তার নির্দিষ্ট অংশ, সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ডের বিবরণ দিয়ে নতুন করে পিচ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছে। বিধানসভায় জমা পড়া নথিতে ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের ‘Received’ সিলও রয়েছে। অথচ এই রাস্তা নিয়েই সম্প্রতি বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকার একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রাস্তা সংস্কার হয়নি এবং সংস্কারের আশ্বাস দিয়েও বিধায়ক কার্যত উধাও। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
অভিযোগ উঠছে, বামুটিয়া কেন্দ্রে উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে বিরোধী দলীয় বিধায়ক নয়ন সরকার বিভিন্ন সময়ে বাধার মুখে পড়ছেন। রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কিছু কুচক্রী মহল নানা ভাবে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ বিধায়কের। তাঁর দাবি, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে তাঁর প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—যে রাস্তা সংস্কারের দাবি বিধানসভায় তোলা হয়েছে, যার জন্য পিটিশনও পাশ হয়েছে, সেই রাস্তা নিয়েই সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার নেপথ্যে আসলে কারা? উন্নয়নের কাজে বাধা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বামুটিয়ায় জোরালো হয়ে উঠেছে।






