খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Tuesday, 11 August 2026 - 05:18 PM
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ - ০৫:১৮ অপরাহ্ণ

পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ

পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ
1 minute read

পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ : বিদ্যালয়ের সাত ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা ও এক ক্লার্কের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জোলাইবাড়িতে। আহত ছাত্রদের চিকিৎসা করানোর পর সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রদের কোনও অপরাধ থাকলেও তাঁদের অভিভাবকদের জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু বিদ্যালয়ের কর্মীর হাতে ছাত্রদের শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অভিভাবকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার বিদ্যালয়ে পাঠরত সাত ছাত্রকে মারধর করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কৃষ্ণা মজুমদার এবং ক্লার্ক কৃষ্ণ লোধ। অভিযোগ আরও গুরুতর করে অভিভাবকরা দাবি করেছেন, ক্লার্ক কৃষ্ণ লোধ ছাত্রদের পায়ে লাথি মারেন। এর ফলে কয়েকজন ছাত্রের বুকে ও পেটে আঘাত লাগে এবং তাঁরা গুরুতরভাবে আহত হয়। ঘটনার পরপরই আহত ছাত্রদের জোলাইবাড়ি সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার একাধিক অভিভাবক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের বক্তব্য, ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল বিষয়টি অভিভাবকদের জানানো এবং নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু একজন ক্লার্ক কীভাবে ছাত্রদের মারধর করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক তপন চক্রবর্তীর কাছে বিষয়টি জানানো হলে তিনি নাকি বলেন, কোনো ছাত্র এই ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তাকে টিসি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হবে। যদিও এই বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য সামনে আসেনি।

এরই মধ্যে ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কৃষ্ণা মজুমদার ও ক্লার্ক কৃষ্ণ লোধকে ‘বাঁচাতে’ শাসকদলের কয়েকজন কর্মী ঘটনাস্থলে আসেন।

অভিযোগ, ছাত্রদের মারধরের ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিউজ তৎকালের জোলাইবাড়ি প্রতিনিধি বীরবাহাদুর ত্রিপুরাও হেনস্তার শিকার হন। তাঁর অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের সময় বিজেপির দক্ষিণ জেলার আইটি সেলের ইনচার্জ সানাই বৈদ্য, মণ্ডলের আইটি ইনচার্জ নয়ন গোপ এবং এসএমসি কমিটির সহ-সম্পাদক সত্য দেবনাথ তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পাশাপাশি দক্ষিণ জেলা পরিষদের সদস্য শম্ভু মানিক এবং স্থানীয় প্রধান বিদ্যুৎ দত্তও তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে অভিভাবক মহলেও। তাঁদের আশঙ্কা, বিদ্যালয়ের ভিতরে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে যেতে ভয় বা সংকোচ বোধ করতে পারে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের হেনস্তার অভিযোগও বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

অভিভাবকরা গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং বিদ্যালয়ে সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে।

এখন দেখার বিষয়, পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এমনটাই দাবি অভিভাবক মহলের।

For All Latest Updates

খাস খবর