ভেঙ্গে পড়েছে বিশালগড়ে আইনের শাসন পিস্তল ঠেকিয়ে এবার ছিন্তাই মোবাইল : বিশালগড় নাম শুনলেই আপনার মাথায় প্রথম কি আসে ? শান্তি , সম্প্রীতি, সংস্কৃতি এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ এর চিত্র ? নাকি ঠিক তার বিপরীত ? নিঃসন্দেহে বিপরীত টাই হবে। এই কথা বলার অন্যতম কারণ বিগত কয়েক দশকে বিশালগড় নামক এই স্থানে ঘটে যাওয়া একের পর এক অপরাধ ও নৃশংসতার ঘটনা।
রাজনৈতিক আমল যেই হোক, বিশালগড় এর ভাগ্য পরিবর্তনে এবং বিশালগড়ের নামের সাথে জুড়ে থাকা কালিমা ঘোচাতে সর্ব রূপে ব্যর্থ এখানকার জন প্রতিনিধি থেকে শুরু করে আম জনতা। বরং যত দিন যাচ্ছে বিশালগড় অপরাধ সাম্রাজ্যের এক অনন্য শিরোপা ধারী হয়ে উঠছে।
ত্রিপুরা রাজ্যের এক অন্যতম অপরাধ এর কারখানা গড়ে উঠেছে সিপাহীজলা জেলার অধীন বিশালগড়ে। দিনের পর দিন চুরি ছিন্তাই রাহাজানির খবরের শিরোনামে যখন বারবার বিশালগড়ের নাম উঠে আসছে তখন জেলা ও মহকুমা পুলিশ আধিয়াকারিকদের ভূমিকা নিয়েই থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন।
কিছুদিন আগেই রাতের আঁধারে মুড়াবারি এলাকায় ছিন্তাই কাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো ছিন্তাই কাণ্ড। টাও আবার গাড়ি চালকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে। এবারের ঘটনা করইমুড়া লস্কর চৌমুহনী এলাকায়। বুধবার রাতে করইমুরা থেকে ফেরার পথে এক দল ছিন্তাই বাজ গাড়ি চালক সহ আরও দুই যুবকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তার মোবাইল সহ নগদ ৬ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে পালায় বলে অভিযোগ।
আক্রান্তরা হলো ইসমাইল মিয়া, নাজমুল হোসেন এবং আরিফ হোসেন। ঘটনার বিবরন দিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, বিশালগড়ের অত্র এলাকা জুড়ে আইন কানুন কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই নিরন্তর অপরাধ এর সাম্রাজ্য চালাচ্চছে কারা ? কেন এতটা স্থুল ভূমিকায় প্রশাসন ? বিশালগড় থানার বর্তমান দায়িত্ব প্রাপ্ত ওসি বিজয় দাস নাম কা ওয়াস্তে কখনো কখনো কিছু কিছু চুনোপুটি দের লোক দেখানোর মত করে ধরে থানায় আনছেন বটে। কিন্তু আসল কিং পিং দের ধরার মত সৎ সাহস নাকি উনার ও নেই।
তার আগে এক অফিসার কে নাকি প্রায়শই দেখা যেত, ডিউটি ছেড়ে মণ্ডল কার্যালয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আড্ডা দিতে। এক প্রকার বিশালগড় থানার কতিপয় পুলিশ বাবুরা নিজেরাই রাজনৈতিক রং মেখে নিজের পকেট ঘোচাতে এতোটাই ব্যস্ত যে অপরাধ এবং অপরাধী কোনটাই দমন করার তেমন কোনো দায় দায়িত্ব তাদের আছে বলে তারা মনেই করেন না।
অন্যদিকে নিজ এলাকায় চলমান অপরাধ এর লাগাম টানতে যেই বাম সেই রাম আমলেও ব্যর্থ জনপ্রতিনিধি। রিলস বনাম রিয়েল বিশালগড় এর আকাশ পাতাল ফারাক এখন মানুষ বোঝে। তাই আগামী দিনে এই রিলস বাজি করেও এই কেন্দ্রে ক্ষমতা ধরে রাখা খুব একটা সহজ হবে বলে মনে হয়না। বিশালগড় বাসীর বিগত কয়েক বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতাই আগামী ভোটে এর জবাব দিয়ে যাবে , এমনটাই মনে করছেন বিশালগড়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।



