Sonamura BJP Candidate : নির্বাচনী লড়াই শুরু হতে না হতেই বিতর্কের কেন্দ্রে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েত। বিজেপি প্রার্থী হিসেবে একজন সরকারি আশা কর্মীকে মনোনীত করার অভিযোগকে ঘিরে এবার সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছে সিপিআইএম, কংগ্রেস এবং তিপ্রা মথা দলের নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও ক্রমশ বাড়ছে।
খবর সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর আসনকে ঘিরে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই আসনে বিজেপির মনোনীত প্রার্থী পেশায় একজন আশা কর্মী। একজন সরকারি প্রকল্পের অধীনে কর্মরত আশা কর্মী কীভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, সরকারি নির্দেশিকা ও নির্বাচনী বিধিনিষেধ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যদি নিয়ম অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য না হন, তাহলে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করতে হবে।
এই বিষয়টিকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রার্থীকেই নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপিরও সেই নিয়ম মেনে প্রার্থী নির্বাচন করা উচিত ছিল। ক্ষমতা দখলের তাগিদে সরকারি নিয়মকানুনকে উপেক্ষা করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতে তিপ্রা মথা দলের নেতৃত্বও বিরোধীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হলে প্রার্থীর যোগ্যতা এবং সরকারি কর্মসূত্রে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি প্রার্থী কিংবা দলীয় নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ, শুধুমাত্র পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ বলে ধরে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী বিধি এবং প্রার্থীর প্রকৃত কর্মসংক্রান্ত অবস্থান খতিয়ে দেখেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
এখন দেখার বিষয়, বিরোধীদের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকরা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর আসনকে ঘিরে এই বিতর্ক আগামী দিনে নির্বাচনী রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজনৈতিক মহল।






