খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Thursday, 5 November 2026 - 09:13 PM
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ - ০৯:১৩ অপরাহ্ণ

Congress Nomination News : স্মার্ট সিটি ও করবৃদ্ধির তোলপাড় ইস্যুতে ৫০ ওয়ার্ডে কংগ্রেসের মনোনয়ন দাখিল

Congress Nomination News
1 minute read

Congress Nomination News : আগরতলা পুর নিগম নির্বাচনে বিরোধী কংগ্রেস দলের মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনা এবং তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন জনস্বার্থের গুরুতর ইস্যুগুলি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি করেছে। আগরতলা পুর নিগমের মোট ৫১টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রথম দিনে ৫০টি ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অবশিষ্ট ১টি ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কিছু জটিলতা থাকায় শুক্রবার সেখানে মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমেই দলটি ৫১টি আসনেই পূর্ণ শক্তি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করবে।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ কড়া আক্রমণ শানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিগত পাঁচ বছরের শাসনকালে শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের ব্যাপক ব্যর্থতা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত নানা সংকটের কথা। তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকেও আগরতলা শহরের উন্নয়নের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ‘মাস্টার প্ল্যান’ বা রূপরেখা গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে অপরিকল্পিত নগরায়ণের জেরে শহরের দীর্ঘমেয়াদি কোনো উন্নতি হয়নি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি আনা হয়েছে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্পের অর্থ তছরুপ ও লোপাটকে কেন্দ্র করে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে আগরতলাকে একটি আধুনিক স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার সঠিক ব্যবহার হয়নি বলেই দাবি কংগ্রেস নেতৃত্বের। অপরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থা, খোঁড়াখুঁড়ি এবং কাজের মন্থর গতির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে গোটা শহর। পাশাপাশি, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ব্যাপক প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আশীষ কুমার সাহা। বেকার যুবকদের চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কথা বলে ভোট বৈতরণী পার হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, যা আজ রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে চরম হতাশার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারের মূল হাতিয়ার হিসেবে কংগ্রেস সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসা অর্থনৈতিক বোঝা কমানোর প্রসঙ্গটিকে সামনে এনেছে। আশিস বাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন , এই পৌর নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং শহরবাসীকে অতিরিক্ত ‘সম্পত্তি কর’ ও ‘জলকর’-এর বোঝা থেকে রেহাই দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। বিগত দিনে যেভাবে লাগামছাড়াভাবে পৌর কর এবং জলকর বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই অন্যায্য কর বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েই কংগ্রেস নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে।

এছাড়াও, শহরের মৌলিক নাগরিক পরিষেবাগুলির বেহাল দশা তুলে ধরে কংগ্রেস নেতৃত্ব বর্তমান প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট আজ আগরতলার ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। শহরবাসীকে তীব্র গরম বা জলের দিনেও পানীয় জলের জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে। জল সরবরাহ ব্যবস্থার এই চরম অব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উদাসীনতার কারণে নাগরিক জীবন বিপন্ন। পরিবেশ দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

শাসক দলের এই সর্বস্তরের ব্যর্থতাগুলোকে পুঁজি করে এবং সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে পাথেয় করে আসন্ন নির্বাচনে জনগণের পূর্ণ আশীর্বাদ ও রায় প্রার্থনা করবে কংগ্রেস। শহরের পরিকাঠামো পুনর্গঠন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা এবং জনমুখী কর নীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীরা এখন প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, এই জোরালো রাজনৈতিক আবহে ভোটাররা পৌর নির্বাচনে কোন রায় প্রদান করেন।

For All Latest Updates

খাস খবর