Santirbajar PM Birthday : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজারে এক বিস্তৃত ও উৎসবমুখর সেবাভিত্তিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘সেবা মেরা যোগদান’ অভিযানের অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা সমাজসেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত হয়। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ শান্তিরবাজার মুকুট অডিটোরিয়ামের সামনে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জেলা ভিত্তিক ‘স্বচ্ছতা হি সেবা ২০২৬’ কর্মসূচির সূচনা ঘটে। গোটা অনুষ্ঠানের মূল ভাবধারা বা থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল ‘স্বচ্ছতা থেকে সমৃদ্ধি’ এবং ‘স্বচ্ছ ভারত, বিকশিত ভারত’।
এই বিশেষ প্রশাসনিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। তাঁর পাশাপাশি বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলো করে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত। তাছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শান্তিরবাজারের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, রাজনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা স্বপ্না মজুমদার, বিধায়ক মাইলাফ্রু মগ, দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলাশাসক মুহাম্মদ সাজাদ পি, অতিরিক্ত জেলাশাসক শান্তি রঞ্জন চাকমা, শান্তিরবাজারের মহকুমা শাসক দীপিকা গৌতম , শান্তিরবাজার পৌর পরিষদের চেয়ারপার্সন স্বপ্না বৈদ্য, ভাইস চেয়ারপার্সন সত্যব্রত সাহা এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক দীপায়ন চৌধুরী ও দেবাশীষ ভৌমিক সহ অন্যান্য সম্মানীয় ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বের ওপর গভীর আলোকপাত করেন। তিনি সগর্বে ব্যক্ত করেন যে, স্বচ্ছতাই হলো প্রকৃত সেবা এবং এটিই দেশপ্রেমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখা ‘স্বচ্ছ ভারত’-এর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে, তিনি নাগরিকদের অনুরোধ করেন যাতে তারা সন্ধ্যায় নিজ নিজ বাড়িতে একটি করে ‘আশীর্বাদ প্রদীপ’ প্রজ্জ্বলন করে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্তটি গড়ে ওঠে শান্তিরবাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্মান জানানোর সময়। প্রতিদিন যারা শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিবেশকে রোগমুক্ত রাখেন, সেই অদম্য কর্মীদের হাতে ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’র প্রতীক হিসেবে স্মারক কাপ তুলে দেওয়া হয়। এই সংবর্ধনা কর্মীদের কাজের প্রতি সমাজের গভীর শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস স্থানীয় জেলা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের মধ্যে ফল ও মিষ্টি বিতরণ করে এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সফল সমাপ্তি ঘটান।






