Sonamura Youth Congress : সোনামুড়া জেলা যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে রাজ্যের বেকার যুবসমাজের বঞ্চনা ও নিয়োগনীতির দুর্নীতির বিরুদ্ধে ৬ ঘণ্টার এক বিশাল গণ অবস্থান আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত তিনটি প্রধান দাবিকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে—রাজ্যের সমস্ত সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র অর্থাৎ পিআরটিসি পুনঃবহাল করা, টেট ১ ও টেট ২ উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের অবিলম্বে শিক্ষকের পদে নিয়োগ দেওয়া এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের মাধ্যমে রাজ্যের নিয়োগনীতির যে চরম অপব্যবহার ও কারচুপি চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করা।
আন্দোলনস্থল থেকে বিভিন্ন যুব কংগ্রেস নেতা ও বক্তারা রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীল কমল সাহা। তার আলোচনায় উঠে আসে কীভাবে রাজ্যে একের পর এক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি চলছে। আরটিআই বা তথ্য জানার অধিকার আইন ব্যবহার করে মেলাঘর পৌরসভার ব্যাপক দুর্নীতি উন্মোচন করায় এলাকার প্রসেঞ্জিৎ সাহার মতো যুবকদের মিথ্যা মামলায় জেলে পুরে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তীব্র অভিযোগ তোলা হয়। বক্তা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, প্রশাসনিক স্তরে বেআইনি কাজকর্ম ও রাজনৈতিক চক্রান্তের কারণে আজ সাধারণ নিরপেক্ষ যুবসমাজ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। মেলাঘর থানায় গিয়েও নিরপেক্ষভাবে প্রথম এজাহার বা এফআইআর নথিভুক্ত করতে গিয়ে তরুণদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
এছাড়াও যুবনেতা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সরকারের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা সংশাপত্র বা পিআরটিসি শিথিল ও বাদ দেওয়ায় বহিরাগতদের পথ সুগম করে দেওয়া হয়েছে। এতে ত্রিপুরা রাজ্যের যোগ্য বেকার তরুণ-তরুণীরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার হারাচ্ছেন। কর্মসংস্থানের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার আজ রাজ্যের যুবসমাজকে কাজের সুযোগ না দিয়ে অনিশ্চয়তা ও নানা সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মেলাঘর শহর সহ সমগ্র রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন আজ সম্পূর্ণ থমকে গেছে। অন্যদিকে স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক স্বার্থে নানা চক্রান্ত ও ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি করে সাধারণ মানুষের চোখ ধাঁধানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যদি দ্রুত টেট ১ ও টেট ২ উত্তীর্ণদের নিয়োগ না করা হয়, নিয়োগে পুনরায় স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দা সংশাপত্র বা পিআরটিসি বাধ্যতামূলক না করা হয় এবং নিয়োগনীতির নামে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির চর্চা বন্ধ না হয়, তবে আগামী দিনে যুব কংগ্রেস সমগ্র রাজ্যজুড়ে আরও তীব্র ও ব্যাপক আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।






