Runiel Debbarma : আসন্ন এডিসি নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। এরই মধ্যে ১৪ বোধজংনগর–ওয়াকিনগর কেন্দ্র থেকে তিপ্রা মথা মনোনীত প্রার্থী রুনিয়েল দেববর্মা জোরদার শক্তি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মোহনপুরের তুলাবাগান চৌমুণী থেকে এক বিশাল মিছিল বেরিয়ে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে পৌঁছে রিটার্নিং অফিসারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দেন তিনি।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এডিসির ইএম রবীন্দ্র দেববর্মা, তিপ্রা মথার লেফুঙ্গা ব্লক সভাপতি দীপক দেববর্মা, যুব সংগঠনের ব্লক সভাপতি প্রশান্ত দেববর্মা সহ দলের একাধিক নেতৃত্ব। সমর্থকদের ঢল ও শোভাযাত্রা ঘিরে গোটা এলাকা রাজনৈতিক উত্তেজনায় মুখর হয়ে ওঠে।
মনোনয়ন দাখিলের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রুনিয়েল দেববর্মা জয়ের ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এবারের এডিসি নির্বাচনে তিপ্রা মথা ২৪টি আসনে জয়লাভ করে পুনরায় পরিষদে সরকার গঠন করবে। পাশাপাশি নিজের কেন্দ্রেও তিনি “২০০ শতাংশ” জয়ী হবেন বলে দাবি করেন।
তবে একইসঙ্গে তার বক্তব্যে রাজনৈতিক বিভ্রান্তির ছাপও দেখা যায়। এক পর্যায়ে তিনি জানান, পূর্বে ২০২১ সালে তিনি অন্য দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং এবছরও নির্বাচনে লড়ছেন। যদিও বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথাও উঠে আসে, যা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি তিপ্রা মথা দলের প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক দলবদল প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, অনন্ত দেববর্মা ও সদাগর কলইয়ের বিজেপিতে যোগদান তিপ্রা মথার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। দলের সংগঠন ও জনসমর্থন আগের মতোই মজবুত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলিকে কটাক্ষ করে রুনিয়েল দেববর্মা বলেন, এই কেন্দ্রে সিপিএম ১০০ ভোটও পাবে না এবং বিজেপিও ১০০০ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। যদিও তার এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি, তবুও বক্তব্যটি নির্বাচনী লড়াইয়ের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের এডিসি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তিপ্রা মথা, বিজেপি এবং সিপিএমের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে। প্রতিটি দলই নিজেদের শক্তি প্রমাণে মরিয়া, আর মনোনয়ন পর্ব থেকেই সেই লড়াইয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
সব মিলিয়ে, ১৪ বোধজংনগর–ওয়াকিনগর কেন্দ্রসহ গোটা এডিসি এলাকায় এখন নির্বাচনী আবহ তুঙ্গে। আগামী ১২ এপ্রিল ভোটগ্রহণ এবং ১৭ এপ্রিল ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।



