Fatikroy Yaba Tablet : নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যের মধ্যেই রাজ্যে ফের সামনে এল বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের ঘটনা। উত্তর ত্রিপুরার ফটিকরায় থানাধীন রাধানগরে একটি মালবাহী ডাম্পার থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আসাম রাইফেলসের রাধানগর ব্যাটেলিয়ান। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা এবং অভিযানের কৃতিত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কুমারঘাটের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডেভিড দেববর্মা জানান, গোপন সূত্রে মাদক পাচারের খবর পেয়ে ফটিকরায় থানার পুলিশ এবং আসাম রাইফেলস যৌথভাবে অভিযান চালায়। সেই সময় TR-01-AT-1541 নম্বরের একটি মালবাহী ডাম্পারকে অনুসরণ করে রাধানগরে, আসাম রাইফেলস ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় আটক করা হয়।
এরপর গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। তবে অভিযান চলাকালীন ডাম্পারের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গাড়িটি উত্তর ত্রিপুরার দিক থেকে আসছিল বলে জানা গেলেও মাদকের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
পরবর্তীতে আসাম রাইফেলসের কাছ থেকে ডাম্পারটি হস্তান্তরের পর মাদক ও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ফটিকরায় থানার পুলিশ। মাদকবিরোধী আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক।
ত্রিপুরায় মাদক পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। রাধানগরের এই অভিযানে আসাম রাইফেলসের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হলেও পুলিশ একে যৌথ অভিযানের সাফল্য হিসেবেই তুলে ধরেছে। কয়েক দিন আগেও কুমারঘাটে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আসাম রাইফেলসের ভূমিকা সামনে এসেছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বারবার মাদক উদ্ধার হলেও পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে কতটা অগ্রগতি হচ্ছে? উদ্ধার হওয়া মাদক কোথা থেকে এসেছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর পিছনে কারা জড়িত, তদন্তে সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।
শুধু মাদক বাজেয়াপ্ত করেই পাচারের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন পাচারচক্রের মূল কারবারিদের শনাক্ত করা, আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজে বের করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা। রাধানগরের ঘটনায় তদন্ত কত দূর এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সচেতন মহলের।






