CPIM Relly In Mohanpur : মোহনপুর মহকুমা কার্যত এক ‘নিষিদ্ধ এলাকা’-তে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিল বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের লাগামহীন সন্ত্রাস, আক্রমণ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেন সিপিআইএম নেতারা। অথচ এই সমস্ত ঘটনার পরেও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ ওঠে।
রবিবার মোহনপুরে এক বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করে সিপিআইএম। পরে মোহনপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান কর্মী-সমর্থকেরা। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জিএমপি নেতা রাধাচরণ দেববর্মা, রতন দাস, বিধায়ক নয়ন সরকার সহ অন্যান্য বাম নেতৃত্ব।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএম নেতা রতন দাস বলেন, গত আট বছর ধরে মোহনপুর মহকুমা জুড়ে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের অবাধ সন্ত্রাস চলছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সিপিআইএম কর্মীদের বাড়িতে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে, অথচ পুলিশ প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কমরেড রমণ দেবের বাড়িতে শতাধিক দুষ্কৃতী প্রকাশ্যে হামলা চালায়। আগাম আশঙ্কার কথা পুলিশকে জানানো হলেও ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা ছিল না। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়, আসবাবপত্র নষ্ট করে এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি পুলিশের এক আধিকারিককেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। অথচ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বাম নেতাদের দাবি, মোহনপুরে রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। সিপিআইএম করা যাবে না, রাজনীতি করা যাবে না—এই নির্দেশ জারি করেছে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। দীর্ঘদিন ধরে কর্মীরা বাড়িছাড়া, বহু পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এলাকায় মাদক ব্যবসা, গাঁজা চাষ, তোলাবাজির মতো বেআইনি কার্যকলাপ শাসকদলের মদতেই চলছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা জানান, এর আগেও একাধিকবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। এসপি এবং এসডিপিও-র কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য, অভিযুক্তদের নাম, সময় ও স্থান উল্লেখ করে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রতন দাস বলেন, পুলিশের দায়িত্ব আইন রক্ষা করা। অথচ শাসকদলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত আট বছরে একজনও বড় দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না। পুলিশ যদি আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান। মোহনপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে বামফ্রন্ট—এমন বার্তাও দেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত এসডিপিও দপ্তরে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। গোটা ঘটনার জেরে মোহনপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।



