বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে উদয়পুরে সিপিআই(এম-এল)-এর গণধরনা : বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে রাজ্যের সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং, অন্যদিকে বিদ্যুতের মাশুল অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির অভিযোগ—দুই সমস্যায় জেরবার সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ পরিষেবার বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবিতে বুধবার উদয়পুর বিদ্যুৎ দপ্তরের বিভাগীয় অফিসের সামনে গণধর্না কর্মসূচি পালন করল সিপিআই(এম-এল)।
এদিনের কর্মসূচি থেকে বিদ্যুতের বর্ধিত মাশুল প্রত্যাহার, ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধ করা এবং সাধারণ গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
গণধর্নায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই(এম-এল)-এর রাজ্য সম্পাদক পার্থ কর্মকার বলেন, বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মাশুল বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের কাছে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিদ্যুতের বিল নিয়ে মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তার দ্রুত নিরসন প্রয়োজন।
পার্থ কর্মকারের আরও অভিযোগ, একদিকে বিদ্যুতের মাশুল বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের পরিষেবার ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের উপর একইসঙ্গে আর্থিক চাপ এবং পরিষেবা-সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির ক্ষেত্রে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিনের কর্মসূচি থেকে সরকারের কাছে বিদ্যুতের বর্ধিত মাশুল অবিলম্বে কমানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার এবং গ্রাহকদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিও ওঠে। গণধরনা থেকে পার্থ কর্মকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুতের বর্ধিত মাশুল কমানোর বিষয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে সিপিআই(এম-এল)।
এদিকে বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি ও লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে উদয়পুরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের রূপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






