খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Friday, 25 September 2026 - 03:16 AM
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

BJP to get Collapsed : ভাঙনের মুখে শাসকদল বিজেপি, ভরাডুবি হতে নেই বেশি সময়ের অপেক্ষা

BJP to get Collapsed
1 minute read

BJP to get Collapsed : উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর দলীয় অনুশাসনের কথা বলে ক্ষমতায় আসা দল যখন ক্ষমতার অন্ধ লোভ, অরাজকতা ও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার পতন যে অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে—তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ত্রিপুরার ধর্মনগরে শাসকদল বিজেপির সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী খণ্ডযুদ্ধ সেই নির্মম রাজনৈতিক সত্যকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। জেলা কার্যালয়ে দলেরই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর প্রকাশ্যে মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং একাধিক কর্মীর মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা কেবল দলীয় শৃঙ্খলার চরম অবনতিকেই নির্দেশ করে না, বরং পুরো অঞ্চলের শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর এক মারাত্মক অশনি সংকেত বহন করে।

প্রয়াত বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেনের প্রয়াণের পর ধর্মনগরে বিজেপি দল কার্যত নেতৃত্বহীন ও অভিভাবকহীন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। সেই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার দখল ও অর্থ কামাইয়ের যে অনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তা আজ সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। একপক্ষে রয়েছেন নতুন বিধায়ক জহর চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী বর্ণালী গোস্বামীর অনুগামীরা, আর অপরপক্ষে দাঁত কামড়ে পড়ে রয়েছে মণ্ডল সভাপতি শ্যামল নাথ ও যুব মোর্চার পৃথক একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী। সব মিলিয়ে এক চরম অরাজক ‘হ য ব র ল’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে খোদ জনপ্রতিনিধি বিধায়কের আক্ষেপসূচক উক্তি চরম নৈরাশ্য ও সার্বিক রাজনৈতিক অসহায়তাকেই জনসমক্ষে সম্পূর্ণ নগ্ন করে দেয়।

তবে এই খণ্ডযুদ্ধের নেপথ্যে কোনো আদর্শগত লড়াই নেই; এর আসল উদ্দেশ্য হলো এলাকার তোলাবাজি, সরকারি ঠিকাদারি এবং সিন্ডিকেট রাজের ওপর নিজস্ব আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্ববন্ধু সেনের মৃত্যুর পর সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতায় কার দখলে থাকবে এলাকার কাটমানির রাজত্ব এবং কে কত বেশি অনৈতিক অর্থ কামাতে পারবে—তা নিয়েই চলছে এই মল্লযুদ্ধ। জাঁকজমকপূর্ণ প্রচার ও শৃঙ্খলার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অর্থ কামাইয়ের অনিয়ন্ত্রিত লোভ আজ সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও অধিকারকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

একটি রাজনৈতিক দলের জেলা কার্যালয়ে এই ধরনের অনৈতিক আচরণ, গুণ্ডামি ও তোলাবাজির সংস্কৃতি কখনোই কাম্য হতে পারে না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট রাজ ও অভ্যন্তরীণ উশৃঙ্খলতার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি ও ক্ষমতার লালসায় জনগণের শান্তি নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ না হলে, এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কেবল দলের বিপর্যয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো সমাজের জন্য চরম বিপদ ডেকে আনবে।

For All Latest Updates

খাস খবর