TET Students Protest : আগরতলায় শিক্ষা দপ্তর ও প্রশাসনিক ভবনের সামনের অংশটি বৃহস্পতিবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ২০২৪ সালে ত্রিপুরা শিক্ষক যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা (টেট-১ এবং টেট-২) উত্তীর্ণ ১৮৫৬ জন চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে রাজপথে নামলে পরিস্থিতি তীব্র উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনরত বেকার যুব-যুবতীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীকে জলকামান ব্যবহার করতে হয়। পরবর্তীতে বহু আন্দোলনকারীকে বলপ্রয়োগ করে গ্রেফতার করে আগরতলা এডি নগর পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষা ও রাজনৈতিক অলিন্দে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৪ সালে রাজ্যজুড়ে আয়োজিত টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগ্যতার চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পান এই ১৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী। এরপর রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী গ্রাজুয়েট টিচার এবং আন্ডার গ্রাজুয়েট টিচার পদের জন্য নথিপত্র যাচাইকরণের প্রক্রিয়াও সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত নিয়োগপত্র বা সুপারিশ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক অবসাদের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই চাকরিপ্রার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, চাকরির সুনির্দিষ্ট দাবিতে তাঁরা বারবার ত্রিপুরা জয়েন্ট রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এবং শিক্ষা দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই শুধু আশ্বাস ছাড়া কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে নিজেদের সমস্যার কথা জানানোর জন্য বহুবার ডেপুটেশন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকালে বাধ্য হয়ে শতাধিক টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থী একজোট হয়ে পুনরায় জেআরবিটি বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে যান এবং স্পষ্ট দাবি জানান যে, কোনো আংশিক বা দফায় দফায় নিয়োগ নয়—২০২৪ সালের উত্তীর্ণ সমস্ত ১৮৫৬ জন প্রার্থীকে একযোগে নিয়োগপত্র দিতে হবে।
বোর্ডের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ প্রথমে ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে জলকামান দাগে। পুলিশের জলকামানের তোড়ে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী রাস্তায় পড়ে যান এবং সাময়িক পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর পুলিশ বেশ কিছু চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেফতার করে প্রিজন ভ্যানে তুলে এডি নগর পুলিশ লাইনে নিয়ে যায়।
আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ, রাজ্যজুড়ে সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষকের তীব্র অভাব থাকা সত্ত্বেও কেন যোগ্য ও টেট উত্তীর্ণ বেকারদের নিয়োগে এমন টালবাহানা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চাকরির প্রহর গুনতে গুনতে তাঁদের অর্থনৈতিক ও পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনকারী নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এভাবে দমন-পীড়ন চালিয়ে রাজপথের আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। অতিসত্বর যদি ১৮৫৬ জনের একযোগে নিয়োগের কোনো স্পষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি না হয়, তবে আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণঅবস্থান এবং আমরণ অনশনের পথ বেছে নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।






