খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Wednesday, 25 March 2026 - 03:13 AM
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ - ০৩:১৩ পূর্বাহ্ণ

Bishalgarh Ranabir : বিশালগড়ে চাঁদাবাজি ও গুলিচালনায় আতঙ্ক! নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ

Bishalgarh Ranabir
1 minute read

Bishalgarh Ranabir : বিশালগড় আবারও উঠে এসেছে খবরের শিরোনামে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক দুষ্কৃতী কার্যকলাপে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এলাকায়। সদ্য ঘটে যাওয়া অনুপ কুমার সাহার বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরকারি ঠিকাদার চন্দন দেবনাথ ও তাঁর পরিবারের উপর নেমে এসেছে ভয়াবহ নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় দুষ্কৃতী রণবীর দেবনাথ ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে চন্দন দেবনাথকে অপহরণ করে এবং মুক্তিপণ দাবি করে। ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রণবীর ফোন করে তাকে বিশাল ডেম অফিসের পেছনের শ্মশান সংলগ্ন মাঠে ডেকে পাঠায়। প্রথমে যেতে অনীহা প্রকাশ করলেও পরে বাধ্য হয়ে সেখানে যান চন্দন।

চন্দনের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই রণবীর ও তার সঙ্গে থাকা আরও ছয়-সাতজন যুবক তাকে ঘিরে ফেলে। সেখানেই তার কাছে ১২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে পিস্তল বের করে ভয় দেখানো হয় এবং দুই রাউন্ড গুলিও চালানো হয়। প্রাণের ভয়ে চন্দন শেষ পর্যন্ত ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা জোগাড় করার সময় চান।

সেই অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বিভিন্ন আত্মীয়-পরিজনের কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা জোগাড় করে অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু তাতেও থামেনি দুষ্কৃতীদের অত্যাচার। পরদিন ১৬ তারিখ বিকেলে চন্দনের বাড়িতে ফের হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, সাদা থার ও দুটি স্করপিও গাড়ি নিয়ে এসে বাড়ির সামনে আবার গুলি চালানো হয় এবং বাকি ১০.৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

সেই সময় বাড়িতে উপস্থিত শ্রমিক ও আত্মীয়রা আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, প্রাণ বাঁচাতে চন্দন দেবনাথ ও তার পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

এরপর ২০ তারিখ ফের বাড়িতে ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি। সেদিনও চন্দন বাড়িতে না থাকাকালীন তার বাড়ির সামনে গুলি চালানো হয়। ঘটনাটি শুনে চন্দনের মা-বাবা চরম ভয়ে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা গয়না বন্ধক রেখে এবং ব্যাংক থেকে গোল্ড লোন নিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন।

তবে তাতেও শেষ হয়নি দুষ্কৃতীদের দাবি। ২২ তারিখ সকালে আবারও ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে অবশেষে চন্দন দেবনাথের পরিবার থানার দ্বারস্থ হয় এবং নিরাপত্তার দাবি জানায়।

চন্দন দেবনাথ বলেন, “আমরা সরকারি কাজ করি, পরিশ্রম করে উপার্জন করি। যদি সেটাই অপরাধ হয়, তাহলে আমাদের আর কিছু বলার নেই। প্রাণ বাঁচানোই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।”

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রণবীর দেবনাথের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে, তাদের মতে, “এটা কি শুধুই নাটক, নাকি সত্যিই প্রশাসন নিষ্ক্রিয়?”

বর্তমানে বিশালগড়ের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। দুষ্কৃতীদের এমন বেপরোয়া কার্যকলাপে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে চন্দন দেবনাথের পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক এবং পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখন দেখার বিষয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কত দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন এবং আদৌ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় কি না।

For All Latest Updates

ভিডিও