Bishalgarh PS News : চুরির সন্দেহে আটক এক যুবকের থানার ভিতরে নিজের গায়ে আগুন লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় বিশালগড়ে। ঘটনায় যুবক-সহ তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মী ও এক এসপিও সদস্য আংশিক অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত যুবকের নাম ময়নাল হোসেন। তাঁর বাড়ি প্রভুরামপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে দুই পুলিশ কর্মী ময়নাল হোসেনকে চুরির সন্দেহে আটক করে বিশালগড় থানায় নিয়ে আসেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে দীর্ঘ সময় থানায় বসিয়ে রাখা হয়। এমনকি ওই সময় তাঁর উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে ময়নালকে লকআপে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি থানার অভ্যন্তরেই নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁকে আগুনের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত পুলিশ ও এসপিও সদস্যরা। সেই সময় তাঁরাও আংশিক অগ্নিদগ্ধ হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর তড়িঘড়ি আহতদের বিশালগড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ময়নাল হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার হাঁপানিয়া হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে জানা যায়। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে ঘটনাটিকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করার পর থানায় কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, তাঁকে কতক্ষণ থানায় রাখা হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি থানার ভিতরে পেট্রোল নিয়ে প্রবেশের সুযোগ পেলেন—এসব বিষয় নিয়েই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি, থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আটক ব্যক্তিদের দেখভালের ক্ষেত্রেও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ কর্মী রাজীব বণিক সাংবাদিকদের চোখ রাঙিয়ে হুমকির সুরে কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। আটক যুবকের বিরুদ্ধে আনা চুরির অভিযোগ, থানায় তাঁর সঙ্গে আচরণ, অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা—প্রতিটি বিষয়ই নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে আহত যুবকের যথাযথ চিকিৎসা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।






