CM Dr. Manik Saha : ত্রিপুরা এবং মিজোরামের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আন্তঃরাজ্য সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দুই প্রতিবেশী রাজ্যের সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এবার যৌথ উদ্যোগে প্রশাসনিক বা আধিকারিক পর্যায়ের প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই পুরানো ও সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা।
সম্প্রতি আগরতলায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি ত্রিপুরা ও মিজোরামের মধ্যে চলমান এই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ করেন।
সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপট ও আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানের প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিছুদিন পূর্বে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমার সাথে এক দ্বিপাক্ষিক কথোপকথনে তিনি সীমান্ত বিরোধের প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করেন। তিনি মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীকে স্পষ্ট প্রস্তাব দেন যে, টেবিল বৈঠকে বসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে দুই রাজ্যেরই স্বার্থরক্ষা করে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর এই সুচিন্তিত ও সহযোগিতামূলক প্রস্তাবে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমাও ইতিবাচক সাড়া দেন এবং এই বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আগরতলায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তবে দুই রাজ্যের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পূর্বে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনা করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। সেই লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা প্রস্তাব দেন যে, দুই মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত বৈঠকের পূর্বে উভয় রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকরা যেন যৌথভাবে প্রাথমিক আলোচনা সেরে নেন, যাতে সমস্যার মূল জায়গাগুলি স্পষ্ট হয়। সেই নির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি মিজোরাম থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল ত্রিপুরা সফরে আসেন এবং আগরতলায় ত্রিপুরার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সাথে প্রথম দফার বৈঠক সম্পন্ন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা উল্লেখ করেন যে, মিজোরামের আধিকারিকদের এই আগমন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে উক্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঠিক কোন কোন নির্দিষ্ট বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা, ভৌগোলিক সীমানা চিহ্নিতকরণ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষ কী ধরনের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট এখনও তাঁর হাতে এসে পৌঁছায়নি। তিনি জানান, আলোচনার সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে বৈঠককারী আধিকারিকদের কাছ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত লিখিত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই তিনি এই আলোচনার ফলাফল এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে পারবেন।
উভয় রাজ্যের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সুসংহত দ্বিপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই এই জটিল সীমান্ত সমস্যার একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সর্বজনগ্রাহ্য সমাধান বের করে আনা সম্ভব। দুই রাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ মেটানোর এই উদ্যোগকে প্রশাসনিক মহলে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, আধিকারিক পর্যায়ের এই প্রাথমিক আলোচনা আগামী দিনে দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পর্যায়ের চূড়ান্ত ও ফলপ্রসূ বৈঠকের জন্য একটি সুদৃঢ় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করল।






