Agartala Robbery News : রাজধানী আগরতলা শহরে আবার দিনের আলোতেই দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। প্রকাশ্য দিবালোকে সোনার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। শুক্রবার বেলা প্রায় ১১টা নাগাদ আগরতলার যোগেন্দ্রনগর এলাকার রামঠাকুর মন্দির সংলগ্ন ব্যস্ত রাস্তায় দুষ্কৃতী হামলার শিকার হন গীতারাণী দাস নামে এক পথচারী মহিলা। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, আর সেই সঙ্গেই ফের বড়সড় প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে শহরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা প্রটোকল ও পুলিশি সক্রিয়তা।
সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—দিনের আলোতেই যদি রাজপথে নাগরিক নিরাপত্তা এমন ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, তবে রাতের শহরের ট্রাফিক ও টহলদারির উপর মানুষ কীভাবে ভরসা রাখবে? ঘটনার বিষদ বিবরণে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে গীতারাণী দাস তাঁর এক পরিচিত মহিলার সঙ্গে নিজস্ব কাজে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এলাকাটি স্বাভাবিকভাবেই বেশ জনবহুল এবং সকালের দিকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতও থাকে যথেষ্ট। কিন্তু ঠিক সেই সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন সন্দেহভাজন যুবক অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসে।
অভিযোগ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইকের এক আরোহী আচমকা ওই মহিলার গলায় থাকা সোনার চেইনটিতে হাত দেয় এবং সজোরে টান মেরে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আক্রান্ত মহিলা নিজের কষ্টার্জিত গয়না রক্ষা করতে প্রাণপণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে দুষ্কৃতীরা তাঁকে কোনো সুযোগ না দিয়ে সজোরে ধাক্কা মেরে নিদারুণ নিষ্ঠুরতায় রাস্তায় ফেলে দেয়। ধাক্কার প্রচণ্ড চোটে তিনি রাস্তার পাকা মেঝের ওপর আছড়ে পড়েন এবং তাঁর হাঁটু, কনুই, পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তক্ষত ও আঘাত লাগে। তাঁর সঙ্গে থাকা অপর মহিলা এই হঠাৎ সংঘটিত তাণ্ডব ও হিংস্রতা দেখে পুরোপুরি স্তম্ভিত ও হতভম্ব হয়ে পড়েন। চোখের পলকে ছিনতাইকারীরা লুণ্ঠিত চেইনটি পকেটে পুরে বাইকে চেপে দ্রুত গতিতে জনাকীর্ণ এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। অপহৃত সোনার চেইনটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এই অনভিপ্রেত ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভুক্তভোগী মহিলা, তাঁর পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা। শারীরিক আঘাত ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাওয়া আক্রান্ত গীতারাণী দাস অভিযোগ করেন, রামঠাকুর মন্দির সংলগ্ন এই এলাকায় ইতিপূর্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিল বা সামাজিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে বাইক বাহিনীর এমন সন্দেহজনক আনাগোনা ও দৌরাত্ম্য দেখা গেছে। কিন্তু স্থানীয় থানার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতি ও সুনির্দিষ্ট নজরদারির অভাবে এই সমস্ত অসামাজিক ও দুষ্কৃতী উপাদান দিন দিন আরও বেপরোয়া ও দুঃসাহসী হয়ে উঠছে। খবর পেয়ে পরবর্তীতে পুলিশ প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করলেও ঘটনার বেশ কিছু সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও অভিযুক্তদের কোনো সুস্পষ্ট পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, মেলেনি কোনো গ্রেফতারির ইতিবাচক খবরও।
জনবহুল ও ব্যস্ততম এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ছিনতাইয়ের ঘটনা সমগ্র আগরতলাবাসীর মনে গভীর আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার এক চরম শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। রাজপথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক ও নারীদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। যদি শহরের প্রাণকেন্দ্রে দিনের আলোতেই দুষ্কৃতীরা এভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করে, রক্তাক্ত করে লুণ্ঠন চালিয়ে অনায়াসে পার পেয়ে যেতে পারে, তবে পুলিশের নিয়মিত নাইট ডিউটি, টহলদারি ও সিসিটিভি নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নাগরিক মনে তীব্র অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক মোড় নেওয়ার আগে সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহল থেকে অবিলম্বে শহরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং শহরজুড়ে স্থায়ী পুলিশ বিট ও টহলদারি বহুগুণ বাড়ানোর জোরালো দাবি তোলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নাগরিককে এভাবে রাজপথে নিজের নিরাপত্তা ও জীবনের ঝুঁকিতে পড়তে না হয়।






