Manasree Choudhury : মনোশ্রীর সুস্থতা কামনায় যখন সমগ্র রাজ্যবাসী একজোট হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, ঠিক তখনই এই পুরো প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধছে মারাত্মক সংশয় ও নানা প্রশ্ন। সাধারণ মানুষের আবেগ ও দরদকে মূলধন করে কোনো নতুন প্রতারণার ফাঁদ পাতা হচ্ছে না তো? এই প্রশ্ন তুলেই আজ পশ্চিম জেলা শাসকের দরবারে হাজির হলেন দুই সচেতন মহিলা নাগরিক।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক মাধ্যমে। সুস্মিতা নন্দী নামে এক মহিলা সোশাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়ে মনোশ্রীর বাবার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন—বাবা হিসেবে তিনি মেয়ের চিকিৎসার জন্য এ যাবৎ ঠিক কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? এই প্রশ্ন তোলার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। অভিযোগ, একাধিক ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে সুস্মিতা নন্দী ও তাঁর পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তার অভাববোধ করায় তিনি আজ বাধ্য হয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন। অন্যদিকে, মনোশ্রীর চিকিৎসা তহবিলে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করছেন, তার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্য এক মহিলা। প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত ঠিক কত টাকা অনুদান হিসেবে উঠেছে এবং তা কীভাবে খরচ হচ্ছে—তার হিসাব প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই বিতর্কের মাঝে মনোশ্রীর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার খরচ জানা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, মনোশ্রী স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রফি (SMA)-র মতো একটি জটিল ও বিরল স্নায়ুজনিত রোগে আক্রান্ত। এটি এমন এক বংশানুক্রমিক ব্যাধি, যা মানবদেহের পেশিগুলোকে ধীরে ধীরে দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যার ফলে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস ও চলাফেরার ক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। এই মারাত্মক রোগের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো ‘জোলেগেনসমা’ (Zolgensma) নামক একটি বিশেষ ইনজেকশন। জিন থেরাপির মাধ্যমে দেওয়া এই একটিমাত্র ইনজেকশনের আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। মধ্যবিত্ত বা সাধারণ পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব বলেই সোশাল মিডিয়া ও সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছিল।
অতীতেও এমন বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুদের বাঁচানোর জন্য সাধারণ মানুষ কোটি কোটি টাকা তুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু বর্তমানে মনোশ্রীর ঘটনায় যেভাবে হিসাব গোপন রাখা এবং প্রশ্ন তুললেই হুমকির অভিযোগ উঠছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছে। সত্যি কি মনোশ্রীর চিকিৎসার জন্য এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, না কি মানবিকতাকে ঢাল করে টাকা রোজগারের কোনো নতুন ধান্দা শুরু হয়েছে—তা এখন বড় প্রশ্ন। জেলাশাসক এই বিষয়ে কী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং সত্য প্রকাশ করেন কি না, এখন সেটাই দেখার।






