PRTC Requirement Removed : ত্রিপুরায় সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র বা বাধ্যতামূলক করার নীতি বাতিলের রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে রাজ্যের যুবসমাজ। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা এবং পিআরটিসি-কে পুনরায় আবশ্যিক করার দাবিতে আগরতলার সার্কিট হাউজের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে ‘জেন-জি’ ও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা। হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার এবং পোস্টার নিয়ে আন্দোলনকারীরা তাদের ভবিষ্যৎ ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সোচ্চার হন এদিন। বিক্ষোভকারীদের ব্যানার ও পোস্টারে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে তাদের আবেগ ও দাবির চিত্র, যেখানে লেখা ছিল— ” বিআরটিসি ইস নট জাস্ট নট এ সার্টিফিকেট, ইট ইজ আওয়ার রাইট আইডেন্টিটি এন্ড কানেকশন টু ত্রিপুরা ” অর্থাৎ পিআরটিসি কেবল একটি কাগজের শংসাপত্র নয়, এটি ত্রিপুরাবাসীর অধিকার, পরিচয় এবং রাজ্যের মাটি ও মানুষের সাথে আত্মিক সম্পর্কের প্রতীক।
আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীদের বক্তব্যে রাজ্যের বর্তমান চাকরিপ্রার্থীদের গভীর উদ্বেগ এবং রাজপথে নামার মূল কারণগুলো উঠে এসেছে। বিক্ষোভকারী এক যুবতী জানান, রাজ্য সরকার ইতিপূর্বে সব ধরনের সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা স্থানীয় যোগ্য যুবকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য ছিল একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু পরবর্তীতে সেই নীতিতে শিথিলতা আনা বা পিআরটিসির আবশ্যিকতা তুলে দেওয়ার ফলে রাজ্যের বাইরে থেকেও বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন। ত্রিপুরা একটি ছোট ও সীমান্তবর্তী রাজ্য, যেখানে বাঙালি, ১৯টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী, চাকমা, মগসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করছেন এবং রাজ্যের তরুণ সমাজ এমনিতেই কর্মসংস্থানের চরম অভাবে ভুগছে। এই পরিস্থিতিতে বহিরাগত চাকরিপ্রার্থীদের অবাধ সুযোগ দিলে স্থানীয় প্রার্থীরা মারাত্মক অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন এবং নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
অন্য এক আন্দোলনকারী যুবক সতর্ক করে দেন যে, সিদ্ধান্তের এই দূরগামী নেতিবাচক প্রভাব হয়তো সাধারণ মানুষের একাংশ এখনই অনুধাবন করতে পারছেন না, কিন্তু আগামী চার-পাঁচ বছর পর যখন স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীরা চাকরির দরজায় কড়া নেড়েও ব্যর্থ হবেন, তখন আজকের এই নীরবতার মাশুল দিতে হবে। সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষা করতে তারা এখনই প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে সরকার যদি তাদের এই মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে কেবল প্রশাসনের দ্বারে নয়, সমগ্র দেশ ও রাজ্যবাসীর সামনে এই অন্যায্য নীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এটি কোনো নির্দিষ্ট একটি জাতি, ধর্ম বা উপজাতির লড়াই নয়। এই আন্দোলন গোটা রাজ্যের যুব সম্প্রদায়ের স্বার্থেই।






