Illegal Sand Mining : সিধাই থানাধীন বড়কাঁঠাল, বীরমোহন ও মোকামবাড়ি এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ১২টি অবৈধ বালুঘাট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। প্রতিদিন নিয়মবহির্ভূতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, একাধিকবার বন দপ্তরের কর্মীদের বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা নীরব থেকেছেন। অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ বালুঘাটগুলি থেকে নিয়মিত মাসিক প্রণামী নেওয়ার কারণেই নাকি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার অবৈধ বালুঘাট থেকে মাসিক প্রণামী নিতে এসেছেন—এমন অভিযোগ তুলে বন দপ্তরের চার কর্মীকে জনতার একাংশ আটক করে বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ওই চার কর্মী কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি।
এরপরই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বালু মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভাঙছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন এবং নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার আশঙ্কাও বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালুঘাটগুলি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে যারা বেআইনিভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়কাঁঠাল, বীরমোহন ও মোকামবাড়ি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বন দপ্তরের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। এখন দেখার, প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।






