Kamalasagar Ganja News : ত্রিপুরার কমলাসাগড় অঞ্চলে ফের চাঞ্চল্যকর মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ মধুপুরের ধনছড়ি এলাকায় কেন্দ্রীয় সংস্থা নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)-এর অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও নগদ টাকা, যা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) এবং মধুপুর থানা-র পুলিশের সহায়তায় দক্ষিণ মধুপুর গ্রামের একটি বাড়িতে হানা দেয় এনসিবি। ওই বাড়িটি প্রসেনজিৎ নমঃ নামে এক ব্যক্তির বলে জানা গেছে। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৫১ কেজি ১২৫ গ্রাম শুকনো গাঁজা এবং নগদ ৩৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে অভিযানের সময় মূল অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ নমঃ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে তার পিতা চিন্তাহরণ নমঃ-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রসেনজিতের স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় প্রসেনজিৎ নমঃ-ও সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় উঠছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কমলাসাগড় আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিন দিক ঘেরা বাংলাদেশ সীমান্ত এবং জীর্ণ কাঁটাতারের বেড়া পাচারকারীদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এছাড়াও, অভিযোগ উঠেছে যে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আশ্রয়ে এই অবৈধ কার্যকলাপ চলছে এবং সেই কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশ নীরব ভূমিকা পালন করছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
অন্যদিকে, কিছুদিন আগেই ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) এলাকায় তল্লাশি চালালেও বড় কোনও সাফল্য মেলেনি। ফলে এই সাম্প্রতিক উদ্ধার ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে।
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, পুরো চক্রটিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।



