Dharmanagar BJP Nomination : উত্তর ত্রিপুরার জেলা সদর ধর্মনগরে উপনির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা শহর। সোমবার এক বর্ণাঢ্য মিছিল ও শক্তি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মনোনীত প্রার্থী জহর চক্রবর্তী তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সকাল থেকেই ধর্মনগরের প্রধান সড়কগুলোতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল। ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র ও দলীয় পতাকায় সজ্জিত হয়ে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিক্রমা করে। মিছিলকে ঘিরে উৎসবের আমেজ তৈরি হলেও রাজনৈতিক বার্তাও ছিল স্পষ্ট—উপনির্বাচনে শক্ত অবস্থান বজায় রাখতে মরিয়া শাসক দল।
এই দিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজিব ভট্টাচার্য সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে দাবি, উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ধর্মনগরকে আরও এগিয়ে নিতে তারা পুনরায় বিজেপিকে ক্ষমতায় দেখতে চান।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রার্থী জহর চক্রবর্তী নিজের জয়ের বিষয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, “ধর্মনগরের মানুষ উন্নয়ন ও শান্তির পক্ষে। তাই এই নির্বাচনে বিজেপির জয় নিশ্চিত।” তিনি আরও জানান, এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করাই তাঁর অগ্রাধিকার হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে গুরুত্ব দিলেও বিজেপি নেতৃত্ব তা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ভোটের ফল প্রকাশের দিনই প্রকৃত সমর্থনের চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে। এমনকি বিরোধীদের জামানত জব্দ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন তারা।
বিজেপি নেতাদের দাবি, অতীতে সিপিএম ও কংগ্রেসের শাসনামলে ধর্মনগর তথা ত্রিপুরা নানা দুর্নীতি ও অপশাসনের শিকার হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকে সামনে রেখেই ভোটে নামছে শাসক দল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের মতে, গত সাড়ে সাত বছরে ধর্মনগরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। সরকারি দপ্তরে অনিয়ম, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল অবস্থার কথাও তুলে ধরছে বিরোধীরা। হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি নিয়ে তারা তীব্র সমালোচনা করেছে।
এই অভিযোগের জবাবে বিজেপি নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের মতে, সরকারি দপ্তর নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালিত হয়, সেখানে লুটপাটের অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। বরং অতীতের বাম শাসনামলেই একাধিক কেলেঙ্কারির নজির রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
এছাড়াও ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, মনোনয়ন জমার দিনই বিভিন্ন দলের সমর্থনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ কাকে সমর্থন করছেন, তা তারা নিজেরাই বিচার করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন বিধায়কের মৃত্যুজনিত কারণেই এই উপনির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। প্রয়াত নেতার অসমাপ্ত কাজগুলি সম্পূর্ণ করাই নতুন প্রার্থীর প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ধর্মনগরকে একটি আধুনিক ও উন্নত শহরে রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের এই শক্তি প্রদর্শন এবং আত্মবিশ্বাস উপনির্বাচনের লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। একই সঙ্গে বিরোধীরাও নিজেদের সংগঠন গোছাতে তৎপর। ফলে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা।
এখন দেখার বিষয়, এই রাজনৈতিক তরজা এবং প্রচারের জোর শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়। ধর্মনগরের ভোটাররা কাকে সমর্থন করবেন, তার উত্তর মিলবে ফল ঘোষণার দিনই।



