Teliamura Death News : বিজয়া দশমীর আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হলো শোক আর কান্নায়। প্রতিমা নিরঞ্জন দেখে আত্মীয়ের বাড়িতে ফিরে পুকুরে স্নান করতে নেমে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো আগরতলার ঠিকাদার সপ্তশ্রী দাসের। ঘটনাটি ঘটেছে তেলিয়ামুড়ার নেতাজিনগর এলাকায়। উৎসবের দিনে এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতের পরিবার-পরিজন ও পরিচিত মহলে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগরতলার ধলেশ্বরের সাত নম্বর রোডের বাসিন্দা মলয় দাসের ছেলে সপ্তশ্রী দাস বিজয়া দশমী উপলক্ষে তেলিয়ামুড়ার নেতাজিনগরে নিজের শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন। উৎসবের আনন্দে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি তিনি শ্বশুরবাড়ির পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা বিজয় নারায়ণ দেবের বাড়িতে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এরপর দশমীঘাটে খোয়াই নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব সম্পন্ন করে হাসিমুখেই বিজয় নারায়ণ দেবের বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। জানা গেছে, ওই বাড়িতে ফিরে সেখানকার পুকুরে স্নান করতে নামেন সপ্তশ্রী। সেই সময় কোনওভাবে তিনি পুকুরের জলে ডুবে যান।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও দমকল বাহিনীর কর্মীদের প্রচেষ্টায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সপ্তশ্রী দাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসবের বাড়িতে কান্নার রোল ওঠে। যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও ছিল বিজয়ার আনন্দ, সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া।
তবে এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে। ঠিক কী পরিস্থিতিতে পুকুরে ডুবে গেলেন সপ্তশ্রী? দুর্ঘটনার সময় সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন? ঘটনার প্রকৃত কারণ কী? এই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে নারাজ বিজয় নারায়ণ দেবের পরিবারের সদস্যরা। যদিও তাঁদের নীরবতার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে শুধু নীরবতার ভিত্তিতে ঘটনায় অন্য কোনও রহস্য রয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই।
বিজয়া দশমীর আনন্দের দিনে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তেলিয়ামুড়ার নেতাজিনগর এলাকা। সপ্তশ্রী দাসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সামনে আসা জরুরি।






