খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Thursday, 29 October 2026 - 04:04 AM
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ - ০৪:০৪ পূর্বাহ্ণ

NHIDCL Road News : কেন্দ্রীয় সড়ক নির্মাণে কোটি টাকার দুর্নীতি, সাব্রুম থেকে উদয়পুর ক্ষোভে তোলপাড়

NHIDCL Road News
1 minute read

NHIDCL Road News : ত্রিপুরা রাজ্যের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত জাতীয় সড়ক ৮-এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার কাজে কোটি কোটি টাকা লুটের এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। কেন্দ্রীয় ভূতল পরিবহন মন্ত্রকের অধীনস্থ জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেডের চরম দায়িত্বহীনতা এবং দুর্নীতির কারণে আজ সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা তছরুপ হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, দেশের যেকোনো জাতীয় সড়কের দুপাশের জঙ্গল পরিষ্কার, ঘাস কাটা, মাটির স্তূপ সমান করা এবং গর্ত ভরাট রাখা অত্যন্ত বাধ্যতামূলক। এর মূল উদ্দেশ্য হলো চালকদের দৃষ্টিগোচরতা বা দৃশ্যমান্যতা ঠিক রাখা এবং কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়ি যাতে রাস্তার বাইরে গিয়ে আরও বড় বিপদের মুখে না পড়ে, তার যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম থেকে গোমতী জেলার উদয়পুর মাতাবাড়ী পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ৮-এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ এই নিয়মগুলোর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুুলি দেখিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, সাব্রুম বাজারের নেতাজি চৌমুহনীর শূন্য বিন্দু থেকে উদয়পুর মাতাবাড়ি পর্যন্ত জাতীয় সড়কের দুপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বহির্দেশীয় ‘মিনামতি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি সংস্থাকে কয়েক কোটি টাকার বিশাল বরাত দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, এই সংস্থাটির মূল দায়িত্ব ছিল প্রতি মাসে অন্তত দুবার সড়কের দুপাশ সুচারুভাবে পরিষ্কার করা। কিন্তু বাস্তবে এর ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। বরং চলতি মাসে দুর্গাপূজার মাত্র দুদিন আগে এই সংস্থাটি একটিমাত্র ডোজার গাড়ি এনে সাব্রুমের জলেফা স্টিল ব্রিজের পরে, হরিণা বাজারের আগে, সাতচাঁদ বাজারের পরে এবং উদয়পুরের গর্জী বাজারের পরে নামমাত্র কয়েক হাত মাটি ও জঙ্গল চেঁচিয়েই কাজ শেষ করে চম্পট দেয়।

স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, গত কয়েক বছরের মধ্যে কখনো এই সড়কের দুপাশে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজের কোনো বালাই ছিল না। আগরতলার রবীন্দ্র ভবন সংলগ্ন জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেডের দপ্তরের কিছু বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী, নামসর্বস্ব কাজ দেখিয়ে এবং কাগজে-কলমে ভুয়া বিল তৈরি করে এই বহির্দেশীয় ঠিকাদার সংস্থাটি এবং দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকৌশলী ও আধিকারিকেরা যৌথভাবে যোগসাজশ করেছেন। কেন্দ্রীয় ভূতল পরিবহন মন্ত্রক থেকে বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকা এভাবে ভাগবাঁটোয়ারা করে লুটের এক রমরমা বাণিজ্য চলছে ত্রিপুরায়।

সাব্রুমের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সাধারণ পরিশ্রমী মানুষের কষ্টের ট্যাক্সের টাকা এভাবে হরিলুট হতে দেওয়া যায় না। উন্নয়নের মোড়কে চলা এই লাগামহীন দুর্নীতি ও কমিশন রাজের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের কঠোর শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে উঠবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ জনতা।

For All Latest Updates

খাস খবর