MLA Ranjit Debbarma : বছরের পর বছর একই পদে পুলিশ কর্মী, উল্টো বারবার বদলি পিএসও—প্রশ্নের মুখে সিকিউরিটি উইংয়ের ভূমিকা।
পুলিশ প্রশাসনের সিকিউরিটি উইংয়ের কার্যকলাপ নিয়ে এবার সরাসরি রাজ্যপালের দ্বারস্থ হলেন ত্রিপুরা বিধানসভার সদস্য রঞ্জিত দেববর্মা। সিকিউরিটি উইংয়ের এসপি অমিতাভ পালের বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্ব, বৈষম্যমূলক আচরণ, সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য এবং দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজ্যপালের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে একাধিক বিষয় তুলে ধরে গোটা ঘটনায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিপ্রা মথা দলের বিধায়ক।
চিঠিতে রঞ্জিত দেববর্মার অভিযোগ, পুলিশ কর্মীদের বদলির ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট বদলি নীতি বাস্তবায়িত নেই। এর সুযোগ নিয়ে কিছু পুলিশ কর্মী বছরের পর বছর একই জায়গায় বহাল থাকছেন। কারও ক্ষেত্রে তিন বছরেরও বেশি সময়, আবার কারও ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বদলি ছাড়াই একই জায়গায় থাকার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে, কিছু পুলিশ কর্মীকে বারবার তুলনামূলকভাবে কঠিন বা অসুবিধাজনক জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন বিধায়ক।
শুধু বদলি নীতি নয়, সিকিউরিটি উইং পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু পুলিশ কর্মীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ, আর্থিক লাভ ও অন্যান্য অনৈতিক সুবিধার বিষয় রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে বিধায়কের নিরাপত্তায় নিযুক্ত পিএসওদের বদলি ঘিরে। বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার দাবি, তাঁর নিরাপত্তায় মোতায়েন পিএসওদের কোনো পূর্বপরামর্শ বা আগাম তথ্য ছাড়াই একাধিকবার বদলি করা হয়েছে। অথচ তাঁর দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পিএসওদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অভিযোগ ছিল না এবং তাঁর বিরুদ্ধেও ওই নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশ দপ্তরে কোনো অভিযোগ করেননি।
চিঠিতে এই ধারাবাহিক বদলিকে নিজের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেছেন বিধায়ক। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনে বদলি ও পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং অভিন্ন নীতি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই ঘটনা বলীর জেরে নিরাপত্তা হীনতায় ভোগার বিষয় উল্লেখ করে নিজ নিরাপত্তা সুবিধা ও পরিত্যাগ করেছেন বিধায়ক।
২৭ অক্টোবর রাজ্যপালের দপ্তরে চিঠিটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। এখন বিধায়কের তোলা এতগুলি গুরুতর অভিযোগের পর রাজ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়। অভিযোগগুলি ঘিরে পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বদলি ও পোস্টিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা।






