খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Tuesday, 27 October 2026 - 04:22 AM
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ - ০৪:২২ পূর্বাহ্ণ

Kumarghat Prepaid Meter : কুমারঘাটে বিদ্যুৎ নিগম অফিস ঘেরাও, প্রিপেইড মিটার নিয়ে বিড়ম্বনায় জনরোষ এবং প্রশ্নবিদ্ধ পরিষেবা

Kumarghat Prepaid Meter
1 minute read

Kumarghat Prepaid Meter : ত্রিপুরায় প্রিপেড মিটার ও বিদ্যুৎ পরিষেবার বেহাল দশা এবং অনলাইন রিচার্জ ব্যবস্থা বারবার বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট চরম জনদুর্ভোগ সাম্প্রতিক সময়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর সাম্প্রতিকতম এবং অত্যন্ত বিস্ফোরক বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল কুমারঘাটে। সরকারি ছুটির দিনে বিদ্যুৎ নিগমের রিচার্জ কাউন্টার বন্ধ থাকা এবং অনলাইন পরিষেবা হঠাৎ অচল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা তাদের নিত্যজীবনকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তোলে। গ্রাহকদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ নিগমের সাব-ডিভিশন অফিসের সামনে বিক্ষোভ ও তীব্র আন্দোলনের রূপ নেয়, যা বর্তমান প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসীনতাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উন্মোচিত করেছে।


কুমারঘাট ও ফটিকরায়সহ বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ছুটির দিনগুলিতে গ্রাহকদের প্রিপেড মিটার রিচার্জ করার বিকল্প কোনো কার্যকর ব্যবস্থা কেন রাখা হয় না? যখন ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রগতি ও উন্নত নাগরিক পরিষেবার বড় বড় বুলি আওড়ানো হচ্ছে, তখন সামান্য একটি রিচার্জ সার্ভারের ত্রুটি বা অনলাইন পোর্টালের স্থবিরতার কারণে গ্রাহকদের অন্ধকারে দিন কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছে কেন? এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং বিদ্যুৎ নিগমের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রশাসনিক অদূরদর্শিতারই এক নগ্ন রূপ। রিচার্জের কোনো পথ খোলা না পেয়ে যখন গ্রাহকরা অফিসে ছুটে যান, তখন সেখানে কাউন্টারে তালা ঝুলে থাকা নাগরিকদের প্রতি এক প্রকারের উপহাসের শামিল।


এই আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কেবল বিদ্যুৎ নিগমের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আছড়ে পড়েছে রাজ্য সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং স্থানীয় বিধায়কদের বিরুদ্ধেও। ক্ষুব্ধ জনতার তীব্র প্রশ্ন, সাধারণ মানুষ যখন দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তখন সরকারের নীতিনির্ধারকরা কী করছেন? মন্ত্রী বা বিধায়কদের বাড়িতে যদি এই ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটত, তবে কি প্রশাসন এত দীর্ঘ সময় দর্শকের ভূমিকা পালন করত? এই প্রশ্ন আজ ত্রিপুরা রাজ্যের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে শেষ পর্যন্ত কুমারঘাট থানার ওসি সঞ্জয় দাসের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসতে হয়। দীর্ঘ চাপানউতোর ও তীব্র আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ অনলাইন পরিষেবা সচল করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন যে নিভে যায়নি, তা এই ঘটনা থেকে দিব্যি স্পষ্ট।


প্রিপেড মিটার চালুর পর থেকেই ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে অনিয়ম, রিচার্জ সংক্রান্ত হয়রানি এবং অতিরিক্ত খরচের অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি প্রমাণ করে যে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং টেকনিক্যাল ব্যাকআপ প্রস্তুত না করেই তাড়াহুড়ো করে এই ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের জনবিরোধী নীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করার পরিবর্তে আরও জটিল করে তুলছে। অবিলম্বে ত্রুটিপূর্ণ প্রিপেড মিটার ব্যবস্থা বাতিল করে পূর্বের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পোস্টপেইড মিটার ফিরিয়ে আনার যে জোরালো দাবি কুমারঘাটের গ্রাহকরা তুলেছেন, তা আজ গণদাবিতে পরিণত হওয়া উচিত। অন্যথায় সরকারের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভের দাবানল আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য।

For All Latest Updates

খাস খবর