Koilasahar Hospital News : চিকিৎসার নামে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কে ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কৈলাশহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। যদিও রোগীর পরিবারের তোলা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, কৈলাশহরের বাসিন্দা আলকাস মিঞা তাঁর অসুস্থ বোনকে চিকিৎসার জন্য ‘দা হোপ’ পরিচালিত ঊনকোটি হাসপাতালে ভর্তি করান। আলকাস মিঞার অভিযোগ, প্রথমে হাসপাতালের পক্ষ থেকে আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁদের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, টাকা দিতে আপত্তি জানালে তাঁর বোনের চিকিৎসা করা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে রোগীকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে হয় বলে দাবি করেন আলকাস মিঞা।
রোগীর পরিবারের এই অভিযোগ সামনে আসার পর সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ঊনকোটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সিইও রাজীব রায় অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই একটি অংশ এই ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাপেন্ডিক্সের সমস্যা নিয়ে ওই রোগী প্রথমে হাসপাতালের ওপিডিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। হাসপাতালের সিইও জানান, বেসরকারি হাসপাতালে ওপিডি-ভিত্তিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে তবেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও দাবি, ওই রোগী একদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং সেই সময় তাঁর কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলেই দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। একদিকে রোগীর পরিবারের তরফে চিকিৎসার জন্য টাকা দাবি এবং চিকিৎসা না করার অভিযোগ, অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার—দুই পক্ষের বক্তব্যে ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা নিয়ে রোগী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে কোনও ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলে সংবাদ প্রকাশের আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানারও আবেদন জানিয়েছেন সিইও রাজীব রায়।
তবে প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল কি না, কিংবা আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অনিয়ম হয়েছিল কি না—তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। দুই পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা নিয়ে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে।






