BJP Motha Alliance News : ভিলেজ কমিটি বা VC নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি, তিপ্রা মথা ও আইপিএফটির জোটের সিদ্ধান্ত ঘিরে ত্রিপুরার রাজনীতিতে যখন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তখন দিল্লির একটি বৈঠকে কে ছিলেন, আর কে ছিলেন না—তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা ও তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যুত কিশোর মাণিক্য দেববর্মার বৈঠক হয় । প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বিজেপির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সম্বিত পাত্রও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, VC নির্বাচনে বিজেপি, তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি একসঙ্গে লড়াই করবে।
কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, সেই সময় দিল্লির ত্রিপুরা ভবনে উপস্থিত ছিলেন তিপ্রা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা এবং রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মাও। তাদের দুজনেরই ওই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল বলে দলীয় মহলে আলোচনা ছিল। অথচ শেষ পর্যন্ত অমিত শাহের সঙ্গে মূল বৈঠকে তাদের রাখা হয়নি—এমনই দাবি সূত্রের।
আর এখানেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। কারণ VC নির্বাচন ঘিরে বিজেপি ও তিপ্রা মথার জোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তিপ্রা মথার সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কার্যকলাপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুই নেতা রঞ্জিত দেববর্মা এবং বৃষকেতু দেববর্মাকে আলোচনার বাইরে রাখা হলেও বিজেপির নেতা তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সম্বিত পাত্র বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করলেও দুজনের মধ্যেই চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে, সম্বিত পাত্রের ওই বৈঠকে থাকার কথা আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না—এমন আলোচনা দলের অন্দরেও রয়েছে। শেষ মুহূর্তে তাঁর উপস্থিতির কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে সূত্রের খবর।
তবে প্রকাশ্যে তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনও অভিযোগ বা অসন্তোষের কথা জানানো হয়নি। বরং পরবর্তী সময়ে জোটের আসন সমঝোতার আলোচনায় রঞ্জিত দেববর্মা ও বৃষকেতু দেববর্মা সক্রিয়ভাবেই অংশ নিয়েছেন। ৬ সেপ্টেম্বরের আসন ভাগাভাগির আলোচনাতেও তিপ্রা মথার প্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের উপস্থিতির কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ অবশ্য দেখিয়েছে, দিল্লির বৈঠকের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে তিপ্রা মথার এই দুই নেতাকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে বিজেপি-তিপ্রা মথার বৈঠকেও বৃষকেতু ও রঞ্জিত দুজনই উপস্থিত ছিলেন।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দলের মাঠপর্যায়ের সংগঠন এবং নির্বাচনী সমীকরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নেতাদের বাদ দিয়ে দিল্লির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সম্বিত পাত্রকে কেন রাখা হল?
তিপ্রা মথার দুই নেতাকে কি শুধুই রাজ্যে দলীয় প্রচার, সংগঠন পরিচালনা এবং জোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সামনে রাখা হচ্ছে? নাকি দিল্লির নেতৃত্বের কাছে জোটের বিষয়ে আলোচনার পরিসরে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করেছে?
এই প্রশ্নগুলির অবশ্য এখনও কোনও প্রকাশ্য উত্তর মেলেনি। ফলে দিল্লির ওই বৈঠকে কার উপস্থিতি এবং কার অনুপস্থিতি—তা নিয়ে তিপ্রা মথার অন্দরমহলে তৈরি হওয়া চাপা অসন্তোষ আগামী দিনে জোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
প্রকাশ্য সূত্রে সম্বিত পাত্রের উপস্থিতি এবং পরবর্তী BJP–TIPRA Motha–IPFT সমঝোতা নিশ্চিত, কিন্তু রঞ্জিত দেববর্মা ও বৃষকেতু দেববর্মাকে বৈঠকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বা তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল—এই অংশগুলি আপনার দেওয়া অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি হিসেবে রাখা হয়েছে, সরাসরি প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।






