Dharmanagar Congress : উত্তর ত্রিপুরার মঙ্গলখালি এলাকা এখনও অস্থির। কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া নৃশংস খালেদ হত্যাকাণ্ডের অভিঘাত কাটেনি, বরং তার রেশে ছড়িয়ে পড়া জনরোষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়, ফলে এলাকায় তৈরি হয় চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার মঙ্গলখালির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান কংগ্রেসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দলে উপস্থিত ছিলেন ধর্মনগর জেলা কংগ্রেস সভাপতি দিগবিজয় চক্রবর্তী, প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিদ চৌধুরী, প্রদেশ কংগ্রেস সদস্য হীরালাল নাথ এবং যুবরাজনগর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি শচীন চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
প্রতিনিধিদলটি অগ্নিদগ্ধ বাড়িঘর ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তোলেন। পাশাপাশি, উত্তেজিত পরিস্থিতিতে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকল পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান।
কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলখালিতে গত এক সপ্তাহ ধরে একের পর এক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। গরু চরানোকে কেন্দ্র করে দুই যুবকের মধ্যে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়, অপরজন এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিনিধিদলের এক সদস্য বলেন, “এই ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের কাছে নেই। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, হত্যার ছয় দিন পরও মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা যায়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা যথেষ্ট সক্রিয় নয়।
তাদের দাবি, এত বড় একটি ঘটনার পরও এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, নিরাপত্তার জন্য মাত্র একজন কনস্টেবল দায়িত্বে রয়েছেন, যা পরিস্থিতির গুরুত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই প্রসঙ্গে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতারা।
প্রতিনিধিদলটি মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চায়, রাজ্যে মানুষের নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়িয়ে। তাদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থায় ভাঙন ধরাচ্ছে।
এদিন নিহতের পরিবার ও আহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান কংগ্রেস নেতারা। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তারা। তবে একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, প্রতিশোধের নামে বাড়িঘরে আগুন লাগানো কোনো সমাধান নয়।
কংগ্রেস নেতৃত্ব স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রাণের বদলে প্রাণ বা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া সমস্যার সমাধান হতে পারে না। সমাজের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের এগিয়ে এসে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে হবে।”
এছাড়াও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও বিধায়কের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যাতে তারা দ্রুত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের দাবি তোলা হয়েছে।
মঙ্গলখালির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন প্রশাসনের তৎপরতা ও কার্যকর পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ পুনরুদ্ধার হয় কিনা।



