একই ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান? প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে এবিভিপির দ্বিচারিতা প্রকাশ : প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত ছাত্র রাজনীতি। ঝাড়খণ্ডে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই ত্রিপুরার বিভিন্ন কলেজে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র পক্ষ থেকে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ায় সংগঠনটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও এবিভিপিকে একইভাবে সরব হতে দেখা যায়নি কখনোই। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের বেলায় কেন তাদের এই ভিন্ন অবস্থান ?
এবিভিপি বরাবরই নিজেদের একটি স্বাধীন ছাত্র সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) বা বিজেপির সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে । তবে বিরোধীদের দাবি, সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অবস্থান তাদের বিজেপির ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন হিসেবেই তুলে ধরে। এই প্রেক্ষাপটে ঝাড়খণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে ত্রিপুরায় এবিভিপির সাম্প্রতিক আন্দোলন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দেশজুড়ে নিট (NEET), ইউপিএসসি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে ছাত্র-যুবাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলেও সেই সময় এবিভিপির প্রতিবাদের ভাষা ছিল স্তব্ধ। অথচ কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্যে একই ধরনের অভিযোগ উঠতেই সংগঠনটি দ্রুত আন্দোলনে নেমেছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করছে।
এখানেই উঠছে মূল প্রশ্ন—প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কি রাজনৈতিক দল ও সরকারের পরিচয় দেখে নির্ধারিত হবে ? যদি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতাই মূল বিষয় হয়, তাহলে যে কোনও সরকারের আমলেই একই ধরনের অবস্থান নেওয়া উচিত বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।
গত এক দশকেরও বেশি সময়ে কেন্দ্রীয় স্তরে বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেও এবিভিপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও এবিভিপির পক্ষ থেকে তাদের আন্দোলনকে ছাত্রস্বার্থ ও পরীক্ষার স্বচ্ছতার দাবিতে পরিচালিত কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
ফলে ঝাড়খণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় এবিভিপির প্রতিবাদ শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংগঠনটির ধারাবাহিক রাজনৈতিক অবস্থান, কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিবাদের ভিন্ন মাত্রা এবং ছাত্রস্বার্থের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত এই ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগের জবাব এবিভিপি কীভাবে দেয়, এখন সেটাই দেখার।






