LOP Jitendra Chowdhury : মন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, “মন্ত্রী হয়ে যা বলবেন, তার সঙ্গে সত্যের সম্পর্ক রাখতে হবে।” বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যে চিনি, সুজি ও ময়দা বিতরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীকে নিশানা করে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিরোধী দলনেতার দাবি, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রেশনে ডবল কোটার খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হতো। ১৯৯৩ সাল থেকে টানা ২৫ বছর দুর্গাপুজো ও নববর্ষে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা মজুরি সহ রেগার কাজ দেওয়ার পাশাপাশি চাল ও ডালে ভর্তুকির ব্যবস্থাও ছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই সময় এপিএল ও বিপিএল—উভয় শ্রেণির মানুষই বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পেতেন। এমনকি মন্ত্রী নিজে বা তাঁর পরিবারের সদস্যরাও সেই সুবিধা পেয়ে থাকলে, আজকের বিতর্কে সেই বিষয়টি ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
রেশনসামগ্রী বিতরণে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, সরকারি অর্থে নিজেদের প্রচার চালানো হচ্ছে। মাত্র ১৫ টাকার ব্যাগ তিন গুণ দামে কেনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কার স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে। তাঁর প্রশ্ন, রেশনের সামগ্রী কি প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি যে তাতে তাঁদের ছবি ব্যবহার করতে হবে?
চিনি ও ডালের দাম বৃদ্ধি নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, গত তিন-চার মাস ধরে রেশনে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ বাজারে চিনি ও ডালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সরকারের পক্ষ থেকে ডালে ২৫ টাকা এবং চিনিতে ১৫ টাকা ভর্তুকির দাবি করা হলেও, সেই ভর্তুকির বাস্তব সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, কয়েক মাসের ভর্তুকির হিসাব দেখিয়ে পুজোর উপহারের প্রচার চালানো হচ্ছে।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই সরকার প্রচারে বেশি মনোযোগী। তিনি সতর্ক করে বলেন, ত্রিপুরার মানুষকে বোকা ভাবার কোনও কারণ নেই। সরকার এই ধরনের প্রচার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে আগামী দিনে তার রাজনৈতিক পরিণতি ভালো হবে না।






