Dharmanagar Road News : রাজ্যের উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার নয়াপাড়া এলাকায় সড়ক সংস্কার কাজ ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নয়াপাড়ায় সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হলেও কাজের গুণগত মান এতটাই নিম্নমানের যে, তা এলাকার মানুষকে গভীরভাবে হতাশ ও ক্রুদ্ধ করেছে। রাস্তার ওপর ঢালাই হিসেবে যে পিচের আস্তরণ দেওয়া হয়েছিল, তা এতটাই ঢিলেঢালা এবং টেকসইহীন যে, স্থানীয় বাসিন্দারা খালি হাতেই তা অনায়াসে টেনে উপড়ে ফেলতে সমর্থ হন। একটি জনকল্যাণমুখী সরকারি প্রকল্পে এ ধরনের নিম্নমানের কাজ ও অপরিকল্পিত বাস্তবায়নের চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ জনগণ তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং কাজের মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থান পরিদর্শনে আসেন পিডব্লিউডি বা পূর্ত দপ্তরের দায়িত্বরত প্রকৌশলী। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ ও ক্ষোভের পর তিনি যেভাবে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন, তা কেবল আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রয়াসই নয়, বরং সরকারি দায়িত্বশীলতার অভাবকেও নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রকৌশলী দাবি করেন , কাজের ক্ষেত্রে সার্বিক কোনো বড় ত্রুটি বা স্থায়ী ক্ষতি হয়নি। তার যুক্তি ছিল, আগের দিন রাতের বেলা তড়িঘড়ি করে সড়ক সংস্কারের কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছিল, যার ফলে পিচ ও পাথরের মিশ্রণটির যথাযথ জমাট বাঁধার জন্য যে সময়টুকু প্রয়োজন—অর্থাৎ ‘প্রোপার সেটিং টাইম’—তা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, ঢালাই সম্পূর্ণ শুকানোর বা সেট হওয়ার আগে যদি টান দেওয়া হয়, তবে নতুন পিচের আস্তরণ এভাবে উঠে আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এছাড়া রাস্তার স্থায়িত্ব ও পুরুত্ব (থিকনেস) কোথাও কম বা বেশি হওয়া প্রসঙ্গে প্রকৌশলীর অদ্ভূত ব্যাখ্যা ছিল, তার দাবি,একটি পুরোনো রাস্তার ওপর যখন বিটুমিনাস বা বিএম ডেক্সিং করা হয়, তখন পুরো পথ জুড়ে সমান পুরুত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না; কোথাও ২০ থেকে ৩০ মিলিমিটার, আবার কোথাও ৬০ থেকে ৮০ মিলিমিটার পুরুত্ব দিয়ে একটি ‘গড়’ বা ‘অ্যাভারেজ’ বজায় রাখতে হয়।
তবে প্রকৌশলীর এসব যুক্তি ও ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার অপচেষ্টা বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা প্রকৌশলীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, কাজের মান ও সেটিং টাইম নিশ্চিত করা তো দূরান্তের কথা, আবহাওয়ার মতো মৌলিক বিষয়কেও কাজের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বৃষ্টির আশঙ্কা বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও কেন রাতের বেলা তাড়াহুড়ো করে কাজের রুটিন চালানো হলো, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর ছিল না। স্থানবাসীরা প্রশ্ন তোলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাজ চললে এবং পিচ সঠিকভাবে না জমলে সরকারের মূল্যবান তহবিল এভাবে জলে ফেলার যুক্তি কী? ঠিকাদার ও দপ্তরের মধ্যকার আঁতাত এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই যে এই নিম্নমানের কাজ সম্ভব হয়েছে, সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ নিশ্চিত।
পরবর্তীতে প্রকৌশলী কিছুটা নতিস্বীকার করে স্বীকার করেন , এলাকা জুড়ে কাজের স্থায়িত্বের ঘাটতি রয়েছে এবং তিনি জনগণের অভিযোগ মেনে নিয়ে সঠিকভাবে পুরুত্ব বজায় রেখে রাস্তাটি সংস্কার ও সংশোধন (রেকটিফিকেশন) করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, পরবর্তীতে রাতের বদলে দিনের আলোতেই কাজটি পুনরায় তদারকি করে সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু এলাকাবাসী কেবল মুখের আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে রাজি নন। তাদের দাবি, সরকারি কাজের নামে সাধারণ মানুষের অর্থ ও সুরক্ষার সাথে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। সঠিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ড বজায় না রেখে তড়িঘড়ি করা এই কাজের পেছনে দায়ী ব্যক্তি ও ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং অতি দ্রুত এই সড়কটিকে দীর্ঘস্থায়ী ও মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণ করে জনগণের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।






