PCC President Press Meet : আসন্ন পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা, আসন সংরক্ষণ এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুললেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করাই দলের প্রধান লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আশিস কুমার সাহা প্রশ্ন তোলেন, ২০২১ সালের অক্টোবরের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করে কেন আসন্ন পুর নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কোনও নাগরিক যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলি পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন।
আসন সংরক্ষণ নীতি নিয়েও সরব হন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, সংরক্ষণের রোস্টার যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। পুর নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে আসন বণ্টন করার দাবি জানান তিনি। বারবার সংরক্ষণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আশিস কুমার সাহা। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানা যায়নি।
নির্বাচনে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করে তার তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে কংগ্রেস। পাশাপাশি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিও জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও সন্তোষজনক পদক্ষেপের আশ্বাস মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন কংগ্রেস সভাপতি।
অন্যদিকে, আসন্ন পুর নির্বাচনে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েও মুখ খোলেন আশিস কুমার সাহা। সিপিএমের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, দলীয় স্তরে আলোচনা চলছে। বিজেপিকে পরাজিত করার লক্ষ্যে কংগ্রেস নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি অনুযায়ী নির্বাচনে লড়াই করবে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, অপশাসন, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে। পাহাড়ের পাশাপাশি সমতলেও শাসকদলের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, আসন্ন পুর নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকা, সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। এখন নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বিরোধী শিবিরের নির্বাচনী সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






