খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Tuesday, 27 October 2026 - 05:09 AM
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ - ০৫:০৯ পূর্বাহ্ণ

Kanya Kotha NGO : দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা যত্রতত্র না ফেলার আহ্বান ‘কন্যা কথা’র

Kanya Kotha NGO
1 minute read

Kanya Kotha NGO : সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দিতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল সামাজিক সংস্থা ‘কন্যা কথা’। প্রতিবছরের মতো এবারও পুজোর পর রাস্তার ধারে, নালা-নর্দমার পাশে কিংবা বিভিন্ন জায়গায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে রাখলেন সংস্থার সদস্যরা। বিগত কয়েক বছর ধরেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছেন তাঁরা। তাঁদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান রেখেই সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা।

দেবী লক্ষ্মীকে ঘিরে বাঙালির আবেগ ও বিশ্বাস দীর্ঘদিনের। লক্ষ্মীপুজোর দিন ঘরে ঘরে ধন-সম্পদ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় দেবীর আরাধনা করা হয়। পুজোর আগে অত্যন্ত যত্ন সহকারে প্রতিমা নিয়ে আসা হয়, সাজানো হয় পুজোর স্থান। নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে চলে পুজো-অর্চনা। কিন্তু পুজো শেষ হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই সেই ভক্তির প্রতিফলন আর দেখা যায় না। বিভিন্ন রাস্তার ধারে, জলাশয়ের পাশে, নালা-নর্দমার কাছে কিংবা অন্যত্র ফেলে রাখা হয় প্রতিমা। সময়ের সঙ্গে সেই প্রতিমাই হয়ে ওঠে আবর্জনার অংশ।

এই দৃশ্য শুধু পরিবেশের জন্যই উদ্বেগের নয়, ধর্মীয় ভাবাবেগের দিক থেকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ‘কন্যা কথা’। সংস্থার সদস্যদের বক্তব্য, যে দেবীকে আমরা এত ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করি, পুজো শেষ হওয়ার পর তাঁর প্রতিমাকে এভাবে অবহেলায় ফেলে রাখা কোনওভাবেই কাম্য নয়। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হয়, অন্যদিকে আগামী প্রজন্মের কাছেও তৈরি হয় একটি ভুল বার্তা।

এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই পুজোর পর পরিত্যক্ত প্রতিমাগুলি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় ‘কন্যা কথা’। সংস্থার সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা প্রতিমাগুলি চিহ্নিত করেন এবং সেগুলি সসম্মানে তুলে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান। তাঁদের মতে, এই কাজ শুধুমাত্র প্রতিমা সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ এবং সচেতনতা তৈরি করাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য।

সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন, পুজো শেষ হওয়ার পর প্রতিমা যেখানে-সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট ও সম্মানজনক স্থানে রাখার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশের কথাও মাথায় রাখতে হবে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
‘কন্যা কথা’র এই উদ্যোগে উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা—ভক্তি শুধু পুজোর সময়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুজোর পরেও সেই শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখতে হবে। দেবীকে সম্মান করার পাশাপাশি প্রকৃতিকেও সম্মান করতে হবে।

সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এই সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁদের আশা, আগামী দিনে আরও বেশি মানুষ এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হবেন এবং পুজোর পর দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট ও সম্মানজনক স্থানে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলবেন। তাহলেই ধর্মীয় বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও তৈরি হবে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

For All Latest Updates

খাস খবর