খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Wednesday, 30 September 2026 - 11:12 PM
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১১:১২ অপরাহ্ণ

Nalchar Affair News : নলছড়ে পরকীয়ার জেরে যুগল কে আটকে মারধোর ও জোর পূর্বক বিয়ে, আইনি বৈধতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Nalchar Affair News
1 minute read

Nalchar Affair News : নলছড়ে এক পরকীয়া প্রেমিক যুগল কে আটকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ নলছড় অটো সিন্ডিকেটের প্রাক্তন সম্পাদক প্রশান্ত লস্কর এবং অটো সিন্ডিকেটের প্রাক্তন সভাপতি প্রসেনজিৎ দেবনাথের স্ত্রী কে অটো শ্রমিকরা আটক করে বিয়ে দেন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে প্রশান্ত লস্কর ও সেই মহিলা কে নিয়ে ঘটনার মীমাংসা করিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বেরা। কিন্তু বুধবার ফের তাঁদের আটক করা হয় এবং পরে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। দু’জনেরই দুই সন্তান রয়েছে বলেও জানা গেছে।

তবে ঘটনাটি শুধু সামাজিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নও। কোনও বিবাহিত নারী বা পুরুষের অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক থাকা নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধ তৈরি হতে পারে। কিন্তু পরকীয়াকে কেন্দ্র করে কোনও ব্যক্তি নিজে আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর পরকীয়া আর স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ নয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আটক, মারধর বা তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া বৈধ হয়ে যায়।

ভারতের বর্তমান ফৌজদারি আইনে কারও চলাফেরার স্বাধীনতা বেআইনিভাবে আটকে রাখা বা কাউকে জোর করে কোথাও আটকে রাখা অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। একইভাবে শারীরিক বলপ্রয়োগ বা হামলার ঘটনাও পৃথক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় বেআইনি আটকে রাখা এবং অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিবাহ একটি আইনগত সম্পর্ক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত আইন এবং পরিস্থিতির উপর বিবাহের বৈধতা নির্ভর করতে পারে। যেমন, হিন্দু বিবাহ আইনে বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। কিন্তু কোনও সামাজিক সংগঠন, শ্রমিক গোষ্ঠী বা স্থানীয় নেতৃত্ব কাউকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার অধিকার রাখে না।

ফলে নলছড়ের এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু ওই নারী-পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়। প্রশ্ন হল—অভিযোগ সত্য হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাঁদের আটকে রাখা, শারীরিকভাবে হেনস্থা করা কিংবা জোর করে বিয়ে দেওয়ার অধিকার কারও রয়েছে কি না। অভিযোগের সত্যতা এবং কারা এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত, তা তদন্তের বিষয়। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে এলাকায়।

For All Latest Updates

খাস খবর