Ratan Lal Nath : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত হীছাছড়ার সাকবাড়িতে বিশ্ব নারকেল দিবস উপলক্ষে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারকেল চাষের প্রচার প্রসারে এক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে থাকা নারকেল উন্নয়ন বোর্ডের ‘প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামার’-এ এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। রাজ্যে নারকেল চাষের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই ছিল এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।
উক্ত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে নারকেল চাষের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, বিভিন্ন ধরণের রোগ ও পোকামাকড় দমন বা ব্যবস্থাপনা এবং নারকেলভিত্তিক বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত পণ্য তৈরির উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নারকেল কেবল ফল হিসেবে বিক্রি না করে তা থেকে প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করলে যে কৃষকরা অনেক বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোকপাত করেন। এছাড়া এলাকার সফল নারকেল চাষিরা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অর্জিত সাফল্যের কথা সমবেত কৃষকদের সামনে তুলে ধরেন, যা উপস্থিত সবাইকে নারকেল চাষে আরও বেশি উৎসাহিত করে তোলে।
চলতি বছরের বিশ্ব নারকেল দিবসের প্রধান ভাবাদর্শ বা প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারিত হয়েছে— “অনিশ্চয়তার সময়ে নারকেল: খাদ্য, শক্তি এবং জীবিকার সুরক্ষায়”। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের অনিশ্চয়তার এই সময়ে নারকেল কীভাবে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, বিকল্প শক্তির উৎস হতে পারে এবং গ্রাম ও শহরের হাজারও মানুষের স্থায়ী জীবিকা তৈরি করতে পারে— সেই গুরুত্বই এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশ্ব নারকেল দিবসের এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে নারকেলকে গ্রামীণ অর্থনীতি, টেকসই জীবনযাত্রা ও আর্থিক সুরক্ষার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষি ও সমাজসেবার সাথে যুক্ত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থেকে কর্মসূচিকে সার্থক করে তোলেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে ইঙ্গিতা গুহাইন, এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী কমল কৃষ্ণ সেন এবং কলাছড়ার কৃষি উন্নয়ন আধিকারিক বাসিল দেববর্মা। উপস্থিত বক্তারা ত্রিপুরায় নারকেল চাষের পরিধি বিস্তার এবং নারকেলভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। সামগ্রিকভাবে, সাকবাড়ির এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানটি দক্ষিণ ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষকদের সমৃদ্ধির পথে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।






