খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Tuesday, 25 August 2026 - 10:37 PM
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ - ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

একের পর এক ব্যর্থতা ঢাকতেই মিথ্যার আশ্রয় সরকারকে নিশানা জিতেন্দ্র চৌধুরীর

একের পর এক ব্যর্থতা ঢাকতেই মিথ্যার আশ্রয় সরকারকে নিশানা জিতেন্দ্র চৌধুরীর
1 minute read

একের পর এক ব্যর্থতা ঢাকতেই মিথ্যার আশ্রয় সরকারকে নিশানা জিতেন্দ্র চৌধুরীর : রাজ্যে একের পর এক ঘটনা নিয়ে ত্রিপুরা সরকার ও শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, একদিকে মুখ্যমন্ত্রী, অন্যদিকে রাজ্য সভাপতি—দুই নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং সরকারের ধারাবাহিক ‘নন-পারফরম্যান্স’ আড়াল করতেই একের পর এক মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে বিভ্রান্তি তৈরি করে জনরোষ প্রশমনের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাজ্যের একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ডিজিপির অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, এই ঘটনার কোনও সদুত্তর এখনও দিতে পারছে না সরকার। একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদে থাকা একজন পুলিশ আধিকারিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় সরকারের বলেই দাবি করেন তিনি।

একইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সড়কের বেহাল পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে বহু রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। সাধারণ মানুষই প্রশ্ন তুলছেন—হাজার কোটি টাকা খরচের পরও রাস্তার এই দুরবস্থা কেন? উন্নয়নের প্রচার এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে , সেটাই অনুধাবন করছেন আম জনতা।

বিদ্যুৎ পরিষেবা ও বিদ্যুতের মাশুল নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। বিদ্যুৎমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, নানা বিষয়ে কথার ফুলঝুরি শোনা গেলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়ছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর ফের তা কমানোকে তিনি সরকারের জনরোষ প্রশমনের কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর অভিযোগ, একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে আবার নতুন যুক্তি ও বক্তব্য সামনে এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বিদ্যুৎ মন্ত্রী কে করিৎকর্মা বলে ও আখ্যা দেন।

এরপরই শাসকদলের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কার্যকর্তার বিরুদ্ধে নারী পাচার, গাঁজা পাচার, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগে একের পর এক মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা সামনে আসছে। এমনকি জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাতেও শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর কথায়, মানুষ গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। আগামী দিনে জনগণই এর জবাব দেবেন। ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা থেকেই শাসকদলের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সেই অস্থিরতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায়।

যোগেন্দ্রনগরে বিদ্যুতের মাশুল কমানোর ফলে ধন্যবাদ রেলির আয়োজন করেছিল বিজেপি। সেই আয়োজিত মিছিল থেকেই আচমকা সিপিআইএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানান বিরোধী দলনেতা। তাঁর প্রশ্ন, যারা মিছিল করতে গিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত, তারাই কীভাবে নিজেদের আক্রান্ত বলে দাবি করছে? ঘটনাটিকে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজেপির মহিলা মোর্চার প্রসঙ্গ তুলে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, মহিলাদের সামনে রেখে যদি মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করানো হয়, তাহলে সেটিও নিন্দনীয়। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে একই পক্ষের লোকজনকে কখনও ‘কালপ্রিট’, আবার কখনও ‘ভিকটিম’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। শাসকদলের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে । তাঁর বক্তব্য, কখন ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে যায়—এই আশঙ্কাই এখন শাসকদলের নেতৃত্বকে তাড়া করছে। আর সেই কারণেই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। মুখ্যমন্ত্রী যখন বলেন, ‘আইন আইনের পথে চলবে’, তখন খুমুলুংয়ে বিজেপির পার্টি অফিসে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তাদের কি চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই আইন যেন সব পক্ষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, সেই দাবিও জানান বিরোধী দলনেতা।

সব মিলিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সড়ক ও বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ—একাধিক ইস্যুতে সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, সরকারের কাজের হিসাব মানুষই নেবেন এবং রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে বাস্তব সমস্যাগুলিকে দীর্ঘদিন চাপা দিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

For All Latest Updates

খাস খবর